গাজা ইস্যুতে বার্নহামের বক্তব্যকে স্বাগত জানাল ব্রিটেন ফিলিস্তিনি ফোরাম

অ্যান্ডি বার্নহাম- রয়টার্স
ব্রিটেন ফিলিস্তিনি ফোরাম (পিএফবি) আজ এক বিবৃতি দিয়ে গাজা ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহামের ‘গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল মন্তব্যকে’ স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বার্নহামের মন্তব্য ব্রিটিশ জনজীবনে ক্রমবর্ধমান সেই উপলব্ধির প্রতিফলন, যেখানে মনে করা হচ্ছে যে চলমান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান তার নৈতিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন বাধ্যবাধকতার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বার্নহাম সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক পুনর্মূল্যায়নের সমাপ্তি নয়, বরং ফিলিস্তিন বিষয়ে ব্রিটিশ নীতিতে একটি অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা হওয়া উচিত। সেই পরিবর্তনের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিক আইন, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সর্বজনীন নীতি।’
ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি ফোরামের চেয়ারম্যান আদনান হামিদান বললেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘন মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, অ্যান্ডি বার্নহাম তা স্বীকার করেছেন। আমি এটিকে স্বাগত জানাই। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি, দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করা। কিন্তু গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যাকাণ্ড, অনাহার এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটানো হয়েছে, তার ব্যাপকতা কেবল স্বীকৃতির চেয়ে অনেক বেশি কিছু দাবি করে। এর জন্য সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
পিএফবি বলেছে, উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এখন এমন সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে যুক্তরাজ্যের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তারা আরও বলেছে, ব্রিটিশ রাজনীতির কিছু অংশে ব্যবহৃত ভাষায় পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন ইতিবাচক। তবে প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা অতীতের ভুল স্বীকারে নয়, বরং সেই উপলব্ধির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সাহস দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায়।
সংগঠনটি বলেছে, পরবর্তী ব্রিটিশ সরকারকে শুধু আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং সেই নীতিগুলো ধারাবাহিকভাবে এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বাস্তবায়নের সদিচ্ছা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে।
পিএফবি জানিয়েছে, তারা নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছে, যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা, সমতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে।




