ইউক্রেনের ড্রোন প্রদর্শনীতে রুশ হামলায় নিহত ১০
- কিয়েভের ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার হামলায় আহত শতাধিক
- পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে নিহত ৫
- উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে আরও দুই ব্যক্তি নিহত
- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাপক হামলার আশঙ্কা
- ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে নিহত ছয়, আহত ২৬
- বৃহত্তম রুশ অনলাইন বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা
- আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন জেলেনস্কি
- একটি রুশ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে রোমানিয়া

কিয়েভের ঠিক বাইরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে পথ পরিষ্কার করছে। ছবি : রয়টার্স
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে দিনের বেলায় চালানো হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে রাশিয়ার নিক্ষেপ করা গ্লাইড বোমায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার ভোরে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমি-তে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলেনস্কি সতর্ক করে আরও বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরেকটি ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই হামলা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। শহরটি সম্মুখসীমা থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ইউক্রেন রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের কয়েকটি গুদামেও হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভের কাছে হামলার পর প্রথমে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সের্হি বেস্ক্রেসনভ, যিনি ‘ফ্ল্যাশ’ নামেও পরিচিত, এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত লিউবা শিপোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়।
পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তারা নিরাপদে আছেন। বেস্ক্রেসনভ বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাননি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনত ইউক্রেনীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
রাশিয়া হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ড্রোন প্রদর্শনের একটি স্থানে দূরপাল্লার উচ্চনির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, সেখানে ড্রোন নির্মাতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ‘রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা ও তা সরাসরি বাস্তবায়নের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়টি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এ ধরনের প্রদর্শনীতে এটি অন্তত তৃতীয় হামলা। প্রকাশ্যে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সেটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল বলে ধারণা হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলিও জানিয়েছেন, কে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিয়েভের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে কিরভ শহরের একটি কারখানা এবং রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গুদামে হামলা চালায় ইউক্রেন। জেলেনস্কি বলেছেন, কিরভের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায়’ হামলা চালানো হয়েছে। ওই স্থাপনা ইউক্রেনে হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জামের উপকরণ সরবরাহ করত বলে জানান তিনি।
শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির ওপর চালানো কয়েকটি হামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ।
এসব হামলায় রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে তেল সংরক্ষণাগার ও শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর কিয়েভ এখন ওয়াইল্ডবেরিজের মতো সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি, এসব কেন্দ্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা যায়। ফলে রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করতেই হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। মঙ্গলবার তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান জানিয়েছেন, শুক্রবার দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি রুশ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এর আগে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সূত্র : বিবিসি




