রোগীর তথ্য ঘিরে ব্রিটেনে চুক্তিযুদ্ধ
- ইসরায়েলি সেনা ও মার্কিন অভিবাসন কার্যক্রমে পালান্টিরের প্রযুক্তি ব্যবহার
- স্বাস্থ্য খাতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ

অস্ত্রোপচারের অপেক্ষা কমবে। চিকিৎসা হবে দ্রুত। এই প্রতিশ্রুতিতেই ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জায়গা পায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান পালান্টির। এখন সেই প্রতিষ্ঠানকে সরাতে বলছেন চিকিৎসক, আইনপ্রণেতা ও অধিকারকর্মীরা। অথচ বিতর্কের মধ্যেই তার চুক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে ব্রিটিশ সরকার।
শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্যব্যবস্থায় পালান্টিরের ৩৩ কোটি পাউন্ডের চুক্তি আরও দুই বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গড়তে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে মেয়াদ বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পালান্টিরের নেতৃত্বাধীন জোটকে ‘ফেডারেটেড ডেটা প্ল্যাটফর্ম’ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চে কাজ শুরু হয়। হাসপাতালের তথ্য সমন্বয়, শয্যা ব্যবস্থাপনা, রোগীর ছাড়পত্র ও অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক করাই লক্ষ্য। প্রথম মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মার্চে।
চুক্তি না বাড়ালে মাত্র কয়েক মাসে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। তাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সরকারি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। তাই আপাতত পালান্টিরকে রেখেই ব্রিটিশ বিকল্প তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। তবে নতুন দরপত্রে পালান্টিরও অংশ নিতে পারবে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুটি কমিটি আগেই চুক্তি না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতে বিকল্পে যাওয়ার পথ কঠিন করবে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা রোগীর সব তথ্য এক কেন্দ্রীয় ভান্ডারে জমা না রেখে বিভিন্ন উৎসের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে রোগীর তথ্যের সুরক্ষা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা এবং পালান্টিরের সামরিক ও নজরদারিসংক্রান্ত কাজ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও মার্কিন অভিবাসন কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (০২ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে জানা যায়, সুবিধা পাচ্ছে বলে সরকারি তালিকায় থাকা ২৯টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ওই ব্যবস্থার প্রয়োগ চালু করেনি অথবা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ব্যবহার করছে না। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আগস্টে ২০২টির মধ্যে ১৪২টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা চালু করেছিল। পালান্টির অবশ্য দাবি করছে, তাদের প্রযুক্তিতে চিকিৎসাসেবার উন্নতি হয়েছে।
পালান্টিরের ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় প্রধান লুইস মোসলে সমালোচকদের বিরুদ্ধে ‘রোগীর চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগ এনেছেন। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি চুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগকে বলেছেন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) পার্লামেন্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, ‘জনসেবার ভিত্তি হলো মানুষের আস্থা।’ চুক্তি পর্যালোচনা যথাযথ প্রক্রিয়ায় শেষ করার কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসার গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রইল। কিন্তু যে ব্যবস্থায় রোগীর আস্থা নিয়েই প্রশ্ন, তার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে কেবল প্রযুক্তি, না জনগণের বিশ্বাসও?



