হংকংয়ে ১ লিটার পেট্রোলের দাম ১৫ ডলার!

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ডলার পেট্রোলের দামই শিরোনাম হচ্ছে রেকর্ড ছোঁয়ার। সেখানে এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্র হংকংয়ে এই মূল্য যেন স্বাভাবিকের চেয়েও দ্বিগুণ। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক তেল আমদানি নির্ভর হওয়ায় এই শহরে আরও গভীর হচ্ছে সংকট। যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহের প্রতিটি স্তরে।
আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, হংকংয়ে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৫ দশমিক ৬ ডলারে পৌঁছেছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯২০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান গড় মূল্যের প্রায় চার গুণ।
গ্লোবালপেট্রোলপ্রাইসেস.কমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সর্বোচ্চ জ্বালানি দামের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগেও এই প্রবণতা বিদ্যমান ছিল।
তেল উৎপাদনকারী উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিীর গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিপিং রুট কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে গত এক মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে হংকংসহ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। যারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
হংকংয়ের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের তথ্যানুযায়ী, শহরের ৭৫ লাখ মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অত্যধিক দামি পেট্রোল মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে লজিস্টিক খরচ বাড়াবে, যার প্রভাব অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়বে।
শহরটির প্রধান নির্বাহী জন লি সম্প্রতি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপাতত জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। কারণ হংকং তার প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য মূল ভূখণ্ড চীন থেকে সংগ্রহ করে।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাতৃভূমির শক্তিশালী সমর্থনের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও হংকং স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অনেক গাড়িচালক এখন মূল ভূখণ্ডের শহরগুলোতে গিয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন। যেখানে দাম হংকংয়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
একজন স্বতন্ত্র পরামর্শক জেসন কান জানান, যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যা বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। কারণ হংকংয়ে জ্বালানির দাম আগে থেকেই অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্য হংকংবাসীদের জন্য পার্শ্ববর্তী শেনচেনের মতো শহরে যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাবারের দাম তুলনামূলক কম। এর ফলে হংকংয়ের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একজন খাবার ডেলিভারি চালক লিউ জানান, খাবার পৌঁছে দেওয়ার খরচ বেড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। এতে তার মতো কর্মীদের জন্য জীবিকা নির্বাহকে কঠিন করে তুলছে।
উচ্চ জ্বালানি মূল্য, ব্যয়বহুল পার্কিং এবং নিবন্ধন ফি–এর কারণে হংকংয়ে গাড়ির মালিকানা বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম কম। একইসঙ্গে শহরটিতে উন্নত ও বিস্তৃত গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ কর এবং জমির উচ্চ মূল্যই হংকংয়ে জ্বালানির অস্বাভাবিক দামের প্রধান কারণ।
সূত্র: সিএনএন

