ব্যয় কমাতে সরকারের ১১ পদক্ষেপ
- সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ
- আপ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক

ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে সরকারের ব্যয় কমাতে নেওয়া হয়েছে ১১ দফা পদক্ষেপ। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসেছে এমন সিদ্ধান্ত।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ। এমনকি বন্ধ থাকবে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিমও। একইসঙ্গে ব্যয় করা যাবে না কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতে। এছাড়াও ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে আপ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ খাতে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, আপ্যায়ন খাতের খরচ না হওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ৫০% ব্যয় করা যাবে। হ্রাস টেনে ধরা হয়েছে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয়ে। তবে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণগুলো এর আওতা-বহির্ভূত। সব ধরনের অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ওয়ার্কশপে।
এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বব্যাপী গুরুতর জ্বালানি সংকট। ব্যয় বেড়েছে জ্বালানি আমদানিতেও। তারপরও এই খাতে বরাদ্দের খরচ না হওয়া অর্থের ৭০% ব্যয় করা যাবে। অতিরিক্ত ব্যয় করলে ভবিষ্যতে দাবি করা যাবে না কোনো বকেয়া ।
সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় খাতে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৮০% ব্যয় করা যাবে। এসব সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের আপ্যায়নে ব্যয় কমানো হয়েছে ৫০ শতাংশ।
বন্ধ থাকবে নদী, সড়ক ও আকাশপথের সব ধরনের যানবাহন কেনা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো ঠিক যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০টি এয়ারক্রাফট কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ট্রেনের ইঞ্জিন, বগি, বাস, স্পিডবোট, জাহাজ কেনার কথা বিভিন্ন দেশ থেকে। স্থগিত হয়ে গেল এই পরিপত্রের মাধ্যমে সবকিছু।
৫০% ব্যয় কমানো হয়েছে আবাসিক-অনাবাসিক ভবন নির্মাণে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে থাকলে পুরো কাজ শেষ করা যাবে। তবে এর জন্য লাগবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন।
সৌন্দর্য বৃদ্ধি খাতে ব্যয় করা যাবে ৫০ শতাংশ। পরিচালন বাজেটের আওতায় বন্ধ থাকবে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয়। তবে এই নিয়ম খাটবে না উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে। এর জন্য নিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন।
সরকারের উপসচিব এবং তার ওপরের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিনা সুদে ঋণ পান। এই গাড়ি চালানোর জন্য তাদের প্রতি মাসে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। অপচয় বাদ দিয়ে এই গাড়ির দাম পড়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা। এই বিনাসুদে ঋণ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।














