পদত্যাগের জোয়ারে উল্টে যেতে পারে বুলবুলের চেয়ার

ছবিঃ আগামীর সময়
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালকদের পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। শনিবার পর্যন্ত বিসিবির পরিচালক সংখ্যা ২৫ জন থেকে ১৮-তে নেমেছে। গুঞ্জন আছে, আরও পরিচালকের পদত্যাগ করার। এই জোয়ারে পরিচালকের সংখ্যা ৮ জনে নেমে এলে ভেসে যেতে হবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। শেষ ব্যক্তি হিসেবে চেয়ার নিয়ে বসে থাকারও সুযোগ থাকবে না, সভাপতির চেয়ার ছেড়ে দিতেই হবে তাকে।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ডসভা পরিচালনার জন্য সাধারণত মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ বা নির্দিষ্ট কোরামের প্রয়োজন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যদি পরিচালকের সংখ্যা ৯ জনের নিচে নেমে যায়, তবে বোর্ড তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাবে এবং তখন সরকার বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারবে।
এছাড়া কোনো পরিচালক যদি বিনা নোটিশে পরপর ৩টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়।
সর্বশেষ নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে এখনও বোর্ডে আছেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। পদত্যাগ করবেন কিনা জানতে চাইলে এই পরিচালকের জবাব, ‘পদত্যাগের ব্যাপারে আমাকে কোনো পক্ষ থেকে কখনো চাপ দেওয়া হয়নি। আমি বোর্ডে এখন পর্যন্ত আছি।’
ইতিমধ্যে ৭ পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। এ ব্যাপারে শাখাওয়াত বলেছেন, ‘যারা পদত্যাগ করছে সেটা তো তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তারা বোর্ড মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এরপর পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, এর মানে কে কী চাচ্ছে তা আগে থেকে বোঝা যাচ্ছে না।’
অন্য পরিচালক ইফতেখার আহমেদ মিঠু একই প্রশ্নের উত্তরে খুব কৌশলী, ‘আমি বিপিএল পরিচালনা করেছি। এখনো একটা দলের টাকা দেওয়া বাকি। সেই দায়িত্ব পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি অন্য কিছু মাথায় নিচ্ছি না। তবে এটা বলতে পারি আমি বর্তমানে যা হচ্ছে এসবের জন্য খুব বিরক্ত।’
তিনি এখন বিরক্তিবোধ করলেও তিনি পক্ষ বদলাতে পারে যেকোনো সময়, এরকমই ধারণা তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পরিচালকের। আসলে বাকি ১৮ পরিচালকের কেউ কাউকে মন খুলে কিছু বলছেন না।
তবে বুলবুলের সঙ্গ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যে। এমন নিঃসঙ্গতার মধ্যে শুধু নাজমুল আবেদীন ফাহিমই তাকে ভরসা দিচ্ছেন। অন্যরা বুলবুলের পাশে হাঁটতেও ভয় পাচ্ছেন, যদি কেউ দেখে ফেলে!
এদিকে বুলবুলদের নির্বাচনে অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়ার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। সেই প্রতিবেদন আইসিসিতে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সব মেলালে বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্তির লক্ষণ স্পষ্ট।














