ইস্টার সানডেতে শিশুরা কেন ডিম উপহার পায়

সংগৃহীত ছবি
ইস্টার সানডে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব। যিশু ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তৃতীয় দিনে দ্বিতীয়বার জীবন লাভের ঘটনাকে উদযাপন করা হয় এই দিনে। ইস্টার সানডে উৎসবের অংশ হিসেবে শিশুরা এই দিনে ডিম রঙ করে এবং একে অপরকে উপহার দেয়।
রঙিন ডিম লুকিয়ে রাখা এবং খুঁজে বের করাও তাদের মজার একটি খেলা। বড়দিনে শিশুরা যেমন বিশ্বাস করে সান্তা ক্লজ রাতে এসে তাদের জন্য উপহার রেখে যায়, ইস্টার সানডের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাস করে ইস্টার বানি তাদের জন্য রঙিন ডিম উপহার হিসেবে রেখে যায়।
সব মিলিয়ে ডিম ইস্টার সানডের উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতকিছু থাকতে ডিম কেন ইস্টার সানডের অনুষঙ্গ হয়ে উঠল? আসলে এটিও যিশুখ্রীষ্টের পুনরুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর পুনরুত্থানকে প্রতীকীভাবে স্মরণ রাখতেই ডিমকে ইস্টার সানডের অনুষঙ্গ করে তোলা হয়েছে।
ডিমকে দেখা হয় নতুন জীবনের সর্বজনীন প্রতীক হিসেবে। একটি ছানা যেমন ডিমের শক্ত খোলস ভেঙে নতুন পৃথিবীতে বেরিয়ে আসে, ঠিক তেমনি যিশুখ্রিষ্টও পাথরের সমাধির দরজা ভেদ করে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন।
ডিমের খোলসকে তুলনা করা হয় যিশুর খালি সমাধির সঙ্গে। শুরুর দিকে গ্রিক এবং সিরিয়ান খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা যিশুর রক্তের প্রতীক হিসেবে ডিমগুলোকে লাল রঙ করতেন। এখন শিশুরা ডিমের বহিরাবরনে নানা রঙ করে এবং ছোটবড় নির্বিশেষে সেদ্ধ ডিম বা চকোলেটের তৈরি ডিম নানা রঙে সাজিয়ে একে অপরকে উপহার দেয়।
তবে শুধু খ্রিষ্টিয় ধর্মেই ডিমকে ধর্মীয় উৎসবের অনুষঙ্গ করে তোলা হয়েছে তা না। প্রাচীন প্যাগান ধর্মেও বসন্তকালে নতুন জীবনের আগমন উপলক্ষে ডিম রঙ করার প্রথা ছিল।














