টাঙ্গাইল
তেল সংকটে যমুনায় নৌ চলাচল ব্যাহত, দুর্ভোগে ৩০ গ্রাম

ছবিঃ আগামীর সময়
জ্বালানি তেলের সংকটে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ। একই সঙ্গে জীবিকা সংকটে পড়েছেন জেলেরা। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা গেছে, গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও সদর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী প্রায় ১০টি ইউনিয়নে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষের শহরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা।
নির্ভর করছেন গাবসারা ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ গোবিন্দাসী নৌঘাটের ওপর। এই ঘাটের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন প্রায় ৪০টি নৌকা দিয়ে পারাপার হতো, এখন তা কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান শুভের সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, তেলের তীব্র সংকটে নৌ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য মতে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ ও জেলেরা। একদিকে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে মাঝিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষক বদিউজ্জামান মণ্ডল জানালেন, সেচের জন্য ডিজেল আনতে গিয়ে এক হাজার টাকায় পুরো নৌকা ভাড়া করতে হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি যাত্রীর ভাড়া ছিল ৩০ টাকা।
মাঝি হাসান আলী বলেছেন, ‘পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে কিনতে গেলে বেশি দাম দিতে হয়। এতে নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
একই সুরে কথা বললেন মাঝি বাবু। বললেন, ‘নলিন থেকে তালতলা চরে চলাচলে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু যাত্রী কম থাকায় খরচ ওঠানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।’
যাত্রী সজিব ও মেহেদী অভিযোগ করেন, আগে নৌকার ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। এখন অনেক সময় ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনেও খরচ বেড়েছে।
জেলে আব্দুস সাত্তার বলেছেন, ‘তেলের সংকটে বাইরে থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।’ তার ভাষ্য, তেল পেতে কষ্ট হচ্ছে, আবার দামও বেশি। এতে মাছ ধরেও খরচ ওঠে না। তাই অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গাবসারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লালমিয়া সতর্ক করেন। তিনি জানান, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চরাঞ্চলের জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।














