সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে
- স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না
- সংবিধান সংশোধনে ‘সংসদীয় কমিটি’ গঠনের দাবি
- ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান

সংগৃহীত ছবি
সংবিধান ‘সংস্কার’ নয়, বরং সংশোধনের মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান কখনো সংস্কার হয় না, এটি রহিত, স্থগিত বা সংশোধন করা হয়।’
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাব দেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য সব দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠন করা হোক। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধনের পথ নির্ধারণ করা উচিত।
তিনি বলেছেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সরকার সম্মান জানাতে চায়। তার ভাষ্য মতে, ২০২৪ সালের জুলাই জাতীয় সনদ ও ঘোষণাপত্রের নির্যাস সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার রয়েছে। এটি চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করা হবে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা চলে না।
সালাউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। বলেছেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো সংসদে আলোচনা করে বাতিল বা সংশোধন করা হবে।
৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা সংযোজন করা হয়েছে। তার মতে, এসব সংশোধন বা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটিকেই তারা প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে সংবিধানে প্রতিফলিত করতে চান।
সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই নীতিটি পুনর্বহাল করতে চায় সরকার। তার ভাষ্য মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়। ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথ নির্ধারণ করতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বাইরে থেকে কোনো চাপিয়ে দেওয়া প্রস্তাব নয়, বরং সংসদের ভেতরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’














