আরবদের ‘হাত’ এবার তেল আবিবের বাজারে
- আরব জনপদের অচেনা গলি, নগদ লেনদেন আর ডিজিটাল ঘাটতি থেকেই গড়ে উঠেছে ১০ কোটি ডলারের সরবরাহ ব্যবসা

ছবি- হাত
সাতশো বছরের পুরনো দুর্গ, সরু গলি আর জটিল পথের শহর আক্রে। সেখানে ২৭ বছরের মুহাম্মদ হানি একসময় বাড়িতে একটি পিৎজাও আনাতে পারতেন না। সরবরাহকর্মীরা তার ঠিকানা খুঁজে পেতেন না। আর খুঁজে পেলেও সমস্যা, কেননা অনেক আরব বাসিন্দার হাতে ব্যাংক কার্ড নেই। বড় সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলির অনেকেই নগদ টাকা নেয় না। হানির কথায়, 'এই মহল্লাগুলোয় কীভাবে চলতে হয়, তা আমাদের মতো বাসিন্দারাই জানি।' রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই বঞ্চিত বাজার থেকেই জন্ম নেওয়া এক আরব প্রযুক্তি উদ্যোগের গল্প।
২০১৯ সালে ইসরায়েলের আরব-অধ্যুষিত উম্ম আল-ফাহম শহরে হাসান আবাসি প্রতিষ্ঠা করেন ‘হাত’৷ আরবি শব্দটির অর্থ ‘এনে দাও’। সুইজারল্যান্ডে গুগলে কাজ করার পর দেশে ফিরে এক সন্ধ্যায় পিৎজা আনাতে গিয়ে বারবার পথ হারান সরবরাহকর্মী। সেখান থেকেই আবাসি বুঝেছিলেন, সমস্যা শুধু খাবারের নয়, আরব জনপদগুলোর বড় অংশই আধুনিক ডিজিটাল পরিষেবার মানচিত্রের বাইরে।
আজ ‘হাত’ প্রায় ৫০টি শহরে, ১০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ ও বাজারের সঙ্গে কাজ করছে; সরবরাহকর্মী পাঁচ শতাধিক। সংস্থাটির দাবি, তাদের মূল্যমান এখন ১০ কোটি ডলারের বেশি। চলতি বছর নতুন বিনিয়োগেও প্রায় দুই কোটি ডলার তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
‘হাত’-এর সবচেয়ে বড় অস্ত্র স্থানীয় বাস্তবতা। নগদ অর্থে মূল্য পরিশোধের সুযোগ তো আছেই, সরবরাহকর্মীদের চলাচলের তথ্য ও যন্ত্রশিক্ষা ব্যবহার করে এমন রাস্তা, বাড়ি ও প্রবেশপথও তারা মানচিত্রে তুলেছে, যেগুলি প্রচলিত মানচিত্রে ছিল না। সংস্থাটির দাবি, তাদের কর্মক্ষেত্রে অন্য মানচিত্রব্যবস্থার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি রাস্তা চিহ্নিত হয়েছে। এই তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও ডাক পরিষেবার কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে।
এই প্রয়োজনের পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবধানও। ইসরায়েলের জাতীয় বিমা প্রতিষ্ঠানের ২০২৪ সালের হিসাবে, আরব পরিবারগুলোর ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল; প্রায় অর্ধেক আরব পরিবার মাসের সব খরচ মেটাতে পারত না। আবার ২০২৫ সালে ইসরায়েলি সংসদের এক কমিটিতে জানানো হয়, আরব বেতনভোগীদের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন, যেখানে ইহুদি বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ।
স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর জন্যও বদল এনেছে এই ব্যবস্থা। বাক্কা আল-গারবিয়ের ছোট ‘ক্রাঞ্চি চিকেন’ অনলাইন প্রচার ও নগদে মূল্য দেওয়ার সুবিধায় নতুন গ্রাহক পেয়েছে। ব্যবস্থাপক শরিফ মাসারওয়েহ বলেছেন, “সবাই ব্যাংক কার্ডে দিতে চান না, নগদের সুযোগ অনেক মানুষকে যুক্ত করেছে।”
এ বার ‘হাত’ ঢুকেছে তেল আবিবে, সরাসরি বাজারের প্রভাবশালী ফিনিশ প্রতিষ্ঠান ওল্ট-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়। সংস্থার যোগাযোগপ্রধান আইদা কাদ্দানের ভাষায়, 'আমরা স্থানীয়; তাই কোথায় ঘাটতি, তা দেখতে পাই এবং প্রযুক্তি দিয়ে সেই ফাঁক পূরণ করি।'
এক সময় যে মহল্লাগুলোকে বড় সরবরাহব্যবস্থা খুঁজেই পেত না, সেই অদৃশ্য গলিগুলোই এখন আরব উদ্যোক্তাদের হাতে কোটি ডলারের প্রযুক্তি ব্যবসার মানচিত্র হয়ে উঠছে।



