ইরান যুদ্ধ
আকাশ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশপথের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। ইরানের হামলা এবং কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের ভুল হামলার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
সিএসআইএস জানাচ্ছে, এই হিসাব ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম বড় বিশ্লেষণ। তবে এতে ঘাঁটি, নৌযান বা বিশেষ সরঞ্জামের ক্ষতি ধরা হয়নি। এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটি তৈরি করেছেন সিএসআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান।
তার ভাষ্য, বিভিন্ন কারণেই ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ কঠিন। কারণ স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যদিও ইরানি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ছবি।
‘আকাশ থেকে শুধু দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোন কোন ভবন, কিন্তু ভেতরে কী ছিল তা জানা কঠিন।’
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নিজেদের গুলিতে। মার্চের শুরুতে কুয়েতে এমনই এক ঘটনায় ভূপাতিত হয় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। যার অনুমানিক মূল্য ৩০৯ মিলিয়ন ডলার।
তবে বেশিরভাগ ক্ষতি হয়েছে ইরানি হামলায়। একইদিন অন্তত একটি শক্তিশালী থাড রাডার হারায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দুটি রাডার ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে কিছু কিছু প্রতিবেদনে। যার অনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৮৫ থেকে ৯৭০ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়াও ১২ মার্চ ইরাকে ধ্বংস হয় একটি ট্যাংকার বিমান, যার অনুমানিক মূল্য ১৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি ই-৩ এডব্লিউএসি রাডার বিমান, যার আনুমানিক মূল্য ৭০০ মিলিয়ন ডলার।
এপ্রিলের শুরুতে কুয়েত ও অন্য এলাকায় ধ্বংস হয়েছে আরও কিছু হেলিকপ্টার ও বিমান, সে-সবের আনুমানিক মূল্য ৬৫৮ মিলিয়ন ডলার। এমনকি তালিকায় রয়েছে ১১ থেকে ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার মডেলের ড্রোনও, যার আনুমানিক মূল্য ১৬৫ থেকে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার।
দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওমর আশৌরের অভিযোগ, পুরো ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করছে না যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক কারণে গোপন রাখা হচ্ছে অনেককিছুই।
ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেছেন তিনি, ‘যুক্তরাষ্ট্র অতীতে অনেক যুদ্ধে সামরিক সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে কৌশলগতভাবে।’
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, ইরানে এই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক। যেমন, সরকার পরিবর্তন ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা।
বর্তমানে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তুলনায় যেমন দশ ভাগের এক ভাগ, তেমনি ব্যবহার করা আকাশযানের পরিমাণও কম।
মার্ক ক্যানসিয়ান মন্তব্য করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে কৌশলগত ভুল করেছে ইরান। এতে ওই দেশগুলো চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছাকাছি।
তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে ব্যর্থ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা। যুদ্ধের শুরুতেই এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা দেয় ইরান। ১৩ এপ্রিল পাল্টা নৌ অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিলেও যুদ্ধের শুরুতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না বলে যোগ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ওমর আশৌর উল্লেখ করেছেন, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরানও। তবে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায়নি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গোলাবারুদ।
ইরানের নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এমন দাবি সঠিক নয় বলে যোগ করেছেন
তিনি। দুর্বল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো লড়াই করার সক্ষমতা রয়েছে দেশটির।



