কূটনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রথম নারী প্রধান লিন্ডি ক্যামেরন

লিন্ডি ক্যামেরন
ব্রিটিশ কূটনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি হলো। প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) শীর্ষ আমলা হিসেবে একজন নারী নিয়োগ পেয়েছেন। ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার লিন্ডি ক্যামেরন হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ ফরেন অফিসের প্রথম নারী স্থায়ী সচিব।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিন্ডি ক্যামেরন বর্তমান স্থায়ী সচিব স্যার অলি রবিন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে বিতর্কের পর রবিন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ সরকার।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সংকট ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্যামেরনের। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড অফিস ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ক্যামেরনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, ক্যামেরনের ‘কূটনীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অসাধারণ অভিজ্ঞতা’ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ‘গতিশীল নেতৃত্বের’ পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মিলিব্যান্ড। তার নেতৃত্বে ফরেন অফিস ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে’ বলেও জানান তিনি।
ক্যাবিনেট সচিব অ্যান্টোনিয়া রোমিও ক্যামেরনের ‘নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে অসাধারণ রেকর্ডের’ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়নেও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্যামেরনের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বাজেট কমানো, কর্মী ছাঁটাই এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা খাতে পরিবর্তনের কারণে দপ্তরের ভেতরে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই বিতর্কে ফরেন অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মন্ত্রীদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরেই রবিন্সকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়োজন তৈরি হয়।
নতুন দায়িত্বে লিন্ডি ক্যামেরন ব্রিটেনের কূটনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতিতে ব্রিটেনের প্রভাব ধরে রাখা এবং নানা সংকটের মধ্যে ফরেন অফিসকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়াই হবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।




