বন্যায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস, রপ্তানিকারক নেপালকেই এখন বিদ্যুৎ দেবে ভারত

ছবি: রয়টার্স
গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-দশমাংশ নষ্ট হয়েছে। এর ফলে দেখা দিয়েছে সাময়িক সঙ্কট। এবার দেশটিকে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ রপ্তানির করবে ভারত। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে এ তথ্য।
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ওই বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। নেপালের ১২টির বেশি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
এখনও ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী।
ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে কতটা বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হবে, তা ডিসেম্বর মাসে পর্যালোচনা করা হবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই অনুমোদন নেপালকে কঠিন এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে।’
তবে দেশটির প্রধান জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অঞ্চল বাগমতিতে ভয়াবহ বন্যার পর নেপাল বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আগামী কয়েক মাসের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার কথাও জানায় তারা।
নেপালের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, তারা ধনী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা চাইবেন। তাদের যুক্তি, প্রাথমিক পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় ৫০০ কোটি ডলারের অর্থের জোগানে এসব দেশ ও সংস্থার অবদান রাখা উচিত।
তারা বলেছেন, এই দুর্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কীভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলো। অথচ এই সংকট তৈরিতে এসব দেশের অবদান খুবই কম।




