কিমের পারমাণবিক স্বপ্নে নতুন পালক
- ইউরেনিয়ামের নতুন স্থাপনা নির্মাণ উত্তর কোরিয়ার, উদ্বেগ জাতিসংঘের
- গত পাঁচ বছরের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা হয়েছে দ্বিগুণ
- ইউরেনিয়াম স্থাপনাটির প্রমাণ পাওয়ার ঘটনায় আইএইএ প্রকাশ
- করেছে ‘গভীর উদ্বেগ’

স্যাটেলাইট ছবি থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার একাধিক স্থানে পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণের।
পারমাণবিক শক্তির দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আরও একটি ধাপ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিমের পারমাণবিক স্বপ্নে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। উত্তর কোরিয়া নির্মাণ করেছে নব্য একটি ইউরেনিয়াম স্থাপনা। দেশটির ইয়ংবিয়নে প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে গড়ে উঠেছে দ্বিতীয় এই বিল্ডিং। ভিয়েনাভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ২৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জানানো হয়, স্যাটেলাইট ছবি থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার একাধিক স্থানে পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণের। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ভবনটিতে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড, অর্থাৎ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সচরাচর ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বসানো সম্ভব।
পারমাণবিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসনে অবস্থিত একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে ২০২৪ সালে নির্মিত একটি অতিরিক্ত অংশে জানুয়ারি মাসেই কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত পাঁচ বছরের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে বলে চলতি বছরের জুন মাসে দাবি করেন দেশটির নেতা। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি এ বিষয়ে বলেছেন, ‘কাংসন ও ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর চলমান কার্যক্রম এবং অস্ত্র-মানের পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের ক্ষেত্রে (উত্তর কোরিয়ার) সক্ষমতা আরও বাড়ানোর যে খবর পাওয়া গেছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং এর আরও উন্নয়ন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলেও যোগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজ’-এর ২০২৫ সালের একটি বিশ্লেষণের বরাতে দক্ষিণ কোরিয়ার পত্রিকা ‘চোসুন ডেইলি’ জানিয়েছে, ইয়ংবিয়ন কেন্দ্রে থাকা ৪ হাজার ৫৯২টি সেন্ট্রিফিউজ-বিশিষ্ট ২৮টি সম্ভাব্য ‘ক্যাসকেড’ (বা সেন্ট্রিফিউজের সারি) থেকে বছরে প্রায় ৮৫ কেজি অস্ত্র-মানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব। এটি ব্যবহারে তৈরি করা যেতে পারে আরও তিন থেকে চারটি পারমাণবিক ওয়ারহেড।
বিগত বছরের তুলনায় উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। ২০১৭ সালে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। তবে এরপর একাধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। চলতি বছরের আগস্ট মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে রয়েছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। যেটি একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখ করা ৫৭টি ওয়ারহেডের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আইনপ্রণেতাদের আন জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এ হিসাবটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, তার দেশের সেনাবাহিনী ওয়ারহেডের এই সংখ্যার বিষয়টি করতে পারেনি নিশ্চিত।
তবে উত্তর কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার কর্তৃত্ব বারবারই প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। জাতিসংঘের কাছে উত্তর কোরিয়ার মিশন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয়। তারা আরও উল্লেখ করে, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ (এনপিটি)-এর আওতাবহির্ভূত কোনো পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো ‘আইনি অধিকার’ আইএইএর নেই।



