মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

চাউক টাউনশিপের গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিচ্ছে জান্তা বাহিনী
মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের চাউক টাউনশিপের গ্রামগুলোতে গত শুক্রবার অভিযান ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বন্দি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
জান্তা-পন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সূত্র বলছে, তৌংথা গ্রামের কাছে জান্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ (পিডিএফ)। এ সময় দলটির ২০ সদস্য নিহত হন। ফ্রন্ট লাইনের একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা দ্য ইরাবতীকে জানান, পিডিএফের এই দলটি ওই অঞ্চেলে গ্রামে গ্রামে আগুন দিতে থাকা সেনা ইউনিটের ওপর অতর্কিত হামলার জন্য অপেক্ষা করছিল।
জান্তা-পন্থী চ্যানেলগুলো নিহত যোদ্ধাদের অস্ত্রসহ মৃতদেহের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছে। তাদের দাবি, তারা জান্তা পুলিশের কমান্ডোদের হাতে নিহত হয়েছে। তবে, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অবরুদ্ধ হওয়ার একটি ড্রোন ফুটেজ সামনে এসেছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় বন্দি করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে একজন জান্তা সেনাকে স্থল সেনাদের নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তিনি বলছিলেন যেন সব পিডিএফ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্তা বাহিনীর এই হামলায় বিমান ও ড্রোন থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে পার্শ্ববর্তী পাঁচটি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। নিহত যোদ্ধারা ম্যাগওয়ে জেলা পিডিএফ ব্যাটালিয়ন ১ এবং ৩-এর সদস্য ছিলেন।
গত রবিবার ৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ফেসবুকে একটি পোস্টে জানান, তার কয়েকজন সহযোদ্ধাকে জীবিত ধরার পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কমান্ডার কো আর জি তার পোস্টে লেখেন, গোলাবারুদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ না করে এই বীর যোদ্ধারা বিপ্লবের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
গত ২৩ জুন থেকে চাউক এলাকায় গ্রামগুলোতে অভিযান ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করে জান্তা বাহিনী। এতে হাজার হাজার গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যায়।






