নির্বাচনী প্রচারণায় মিথ্যা তথ্য
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল-- রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সোমবার দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। তবে তিন বছরের জন্য সেই দণ্ড স্থগিত রাখা হয়েছে। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে।
রায়টি আপিল শেষে বহাল থাকলে ইউনের দল পিপল পাওয়ার পার্টিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের ৩৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ওন (প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার) ফেরত দিতে হতে পারে। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর এই অর্থ পেয়েছিল দলটি।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইউন মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, সাবেক এক কর কর্মকর্তার সঙ্গে একজন আইনজীবীর পরিচয় করিয়ে দেননি তিনি। পাশাপাশি তিনি এবং তার স্ত্রী, সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হি, শামান জিওন সিয়ং-বেয়ের সঙ্গে কখনো দেখা করেননি বলেও দাবি করেছিলেন। এই দুই সম্পর্কই ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল নির্বাচনী প্রচারণার সময়।
আদালত প্রসিকিউশনের যুক্তি গ্রহণ করে বলেছে, ইউনই ওই আইনজীবীর সঙ্গে সাবেক কর কর্মকর্তার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া স্ত্রীর মাধ্যমে প্রথম পরিচয়ের পর জিওন সিয়ং-বেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তার।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, ‘কোনো প্রার্থী যখন বিতর্কসভা বা সাক্ষাৎকারের মতো জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অনুষ্ঠানে নিজে মিথ্যা তথ্য দেন, তখন তা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।’
প্রসিকিউশন ইউনের বিরুদ্ধে দুই বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তার ওই বক্তব্যগুলো অভিযোগগুলো নিয়ে জনসমালোচনা কমাতে সহায়তা করেছিল।
ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলে অথবা অন্তত ১৫ শতাংশ ভোট পেলে তার দল নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত পায়। তবে পরে যদি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন বাতিলযোগ্য চূড়ান্ত সাজা—যেমন কারাদণ্ড বা অন্তত ১০ লাখ ওন জরিমানা—বহাল থাকে, তাহলে দলকে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়।
ইউন বর্তমানে আরও কয়েকটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জারি করা সামরিক আইনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলায় একটি নিম্ন আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল তাকে।




