স্যামসাং তাদের কর্মীদের পদোন্নতি দিবে এআই ব্যবহার করে

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়িক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কার্যকারিতা পরিমাপ করতে এক অভিনব মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছে বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) কোরিয়ান গণমাধ্যম দ্যা চুসন ডেইলিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যামসাং তাদের সকল অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে চালু করেছে 'এফটিই' (Full-Time Equivalent) ভিত্তিক নতুন এক কর্মকর্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো বিভাগে এআই ব্যবহারের ফলে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার ভিত্তিতে কতজন পূর্ণকালীন কর্মীর কাজের সময় বা শ্রম সাশ্রয় হয়েছে, তা পরিমাপ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পিআর বিভাগ এআই দিয়ে প্রেস রিলিজ তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করে ২ এফটিই পয়েন্ট অর্জন করে, তবে ধরে নেওয়া হবে যে এআই দুজন কর্মীর সমপরিমাণ কাজ কমিয়ে দিয়েছে। এই মূল্যায়ন বছরের শেষে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বোনাস নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার করপোরেট জগতে এখন এআই দক্ষতা ও ব্যয়-সংকোচনকে পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেবল এআই ব্যবহার করার উৎসাহ দেওয়ার দিন শেষ করে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে খরচের বিপরীতে মানবশ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের বাস্তব প্রমাণ দাবি করছে। কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, একজন দক্ষ কর্মী যে কাজ মাত্র ২০০ টোকেন (ডেটা প্রসেসিং ইউনিট) খরচ করে সমাধান করতে পারেন, অদক্ষ কর্মীরা সেই একই কাজের পেছনে প্রম্পট লেখার ভুলের কারণে ৮,৯৬৬ টোকেন পর্যন্ত অপচয় করেন। এতে এআই ব্যবহারের ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
টোকেনের অপচয় রোধ ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে:
এসকে টেলিকম: অতিরিক্ত টোকেন খরচ ও অনাবশ্যক ডেটা ফিল্টার করতে বিশেষ প্রকৌশলী দল গঠন করেছে, যা তথ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে টোকেন কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে।
এলজি ডিসপ্লে: ম্যানেজারিয়াল পদে পদোন্নতির জন্য 'এএক্স (এআই ট্র্যান্সফরমেশন) শিক্ষা ও মূল্যায়ন' সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করেছে। এআই মূল্যায়নে অকৃতকার্য হলে পদোন্নতির সুযোগ থাকছে না।
এসকে এএক্স: সকল কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক 'এআই লিটারেসি সার্টিফিকেট পরীক্ষা' চালু করেছে, যেখানে নিম্ন গ্রেড পাওয়া কর্মীদের পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়।
আইটি ও করপোরেট খাতের পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও এখন এআই ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হচ্ছে। অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'কিয়া' (Kia) তাদের ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থীরা কীভাবে এআই-এর সাথে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধান করে, তা যাচাইয়ের জন্য 'এআই প্রবলেম-সলভিং ভেরিফিকেশন' যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যারা এআই-কে কেবল সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহার করে কোম্পানির টোকেন ও সম্পদ অপচয় করবেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়বেন।



