জাপানে ভালুকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লাইনচ্যুত ট্রেন, রাতভর আটকে থাকলেন যাত্রীরা

ছবি: রয়টার্স
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপে ভালুকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লাইনচ্যুত হয়েছে একটি ট্রেন। এরপর রাতভর ট্রেনের ভেতরেই কাটাতে হয়েছে যাত্রীদের।
জাপান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ভালুকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর ট্রেনটির লাইনচ্যুতি ঘটে। এটি সীমিত যাত্রীসেবার একটি এক্সপ্রেস ট্রেন ছিল।
আসাহিকাওয়া থেকে ওয়াক্কানাই শহরের দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। এতে ছিলেন ৩৪ জন যাত্রী ও কর্মী।
যাত্রী বা ট্রেনের কোনো কর্মী আহত হননি। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় ভালুকটি বেঁচে ছিল কি না, তা প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট করা হয়নি।
জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সঙ্গে ভালুকের বিপজ্জনক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। খাবারের সন্ধানে ভালুকগুলো বাড়িঘর, স্কুল, সুপারমার্কেট ও উষ্ণ পানির ঝরনাকেন্দ্রগুলোতে ঢুকে পড়ছে।
গত কয়েক বছরে দেশটিতে ভালুকের আক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে ভালুকের সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাবারের প্রাপ্যতায় পরিবর্তন, গ্রামাঞ্চলের জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং কৃষিজমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ার মতো কারণকে দায়ী করছেন।
তাদের মতে, এসব কারণে ভালুকগুলো মানুষের বসতির আরও কাছে চলে আসছে।
গত বছর জাপানে ভালুকের আক্রমণে রেকর্ড ১৩ জন নিহত হন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রাণীটির হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচজনের।
২০২৫ সালের এক সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশকে জাপানে বাদামি ভালুকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ১২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির প্রধান দ্বীপ হোনশুতে এশীয় কালো ভালুকের সংখ্যা এখন প্রায় ৪২ হাজার।
বড় আকারের বাদামি ভালুক মূলত হোক্কাইডো দ্বীপে পাওয়া যায়। এদের সংখ্যা আনুমানিক ১২ হাজার। পুরুষ ভালুকের গড় দৈর্ঘ্য ২ মিটার এবং ওজন ৪০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
প্রায় ২০ বছর পর এশীয় কালো ভালুক শিকারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেয় টোকিও। গত সেপ্টেম্বরে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে পশ্চিম টোকিও ও শহরাঞ্চলে প্রবেশকারী নদীপথগুলোর আশপাশে প্রতিবছর ৩৪টি ভালুক শিকার করতে পারবেন শিকারিরা।
গত বছর আকিতা অঞ্চলে প্রাণঘাতী ভালুকের হামলা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল জাপান। ওই অঞ্চলে ভালুক দেখার ঘটনা ছয় গুণ বেড়ে ৮ হাজার ছাড়িয়েছিল।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্স





