কুমিরের এআই ছবিতে আতঙ্ক, সিঙ্গাপুরে গ্রেপ্তার মিয়ানমারের নাগরিক

পানদান জলাধার
সিঙ্গাপুরের একটি জনপ্রিয় জলাধারে এআই দিয়ে তৈরি নোনা পানির কুমিরের ছবি পোস্ট করার অভিযোগে ইয়ে লিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
লিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বার্তা প্রচার এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছবি পোস্ট করার পর তিনি সেটি এবং ছবি তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশনটি মুছে ফেলেন।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভুয়া ছবিটি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। কুমির দেখা গেছে, এমন তথ্য পাওয়ার পর গত মাসে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জলাধারে দুই দিনের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করেছিল দেশটির জাতীয় পানি সংস্থা।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের নাগরিক ইয়ে লিন দোভাষীর মাধ্যমে আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি দোষ স্বীকার করতে চান।
জাতীয় পানি সংস্থা জানিয়েছে, ২০ আগস্ট পানদান জলাধারে কুমির দেখা গেছে বলে তাদের জানানো হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তা এবং জাতীয় উদ্যান বিভাগের কর্মীরা ওই এলাকায় কুমির খোঁজা ও ধরার অভিযান পরিচালনা করেন। সিঙ্গাপুর রোয়িং অ্যাসোসিয়েশন ও সিঙ্গাপুর ক্যানো ফেডারেশনকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়।
তবে পরদিন পানি সংস্থা নিশ্চিত করে যে কুমিরের ছবিটি ভুয়া। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
নভেম্বরে মামলাটি আবার আদালতে উঠবে। দোষী সাব্যস্ত হলে ইয়ে লিনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
সিঙ্গাপুরে মিথ্যা বার্তা পাঠানোর অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
পুলিশের অভিযোগ, ইয়ে লিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কুমিরের ছবিটি তৈরি করার পর সেটি এক সহকর্মীর কাছে পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরে নিজের কর্মকাণ্ড গোপন করার চেষ্টায় ওই ব্যক্তি ছবিটি এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনটি মুছে ফেলেন।’
তবে ইয়ে লিনের সহকর্মীর কাছে পাঠানো ভুয়া ছবিটি কীভাবে জাতীয় পানি সংস্থার নজরে আসে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র : বিবিসি




