বন্যার ভয়াবহতায় সবচেয়ে নাজুক নারী-শিশুরা
- উদ্ধার থেকে আশ্রয়- চাই বিশেষ নজর

ছবি: রয়টার্স
বন্যা, ভূমিধস কিংবা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই মানুষের জীবন বাঁচানো। কিন্তু বিপর্যয়ের মুহূর্তে সব মানুষের ঝুঁকি এক রকম নয়। নারী, গর্ভবতী নারী, শিশু এবং সদ্যোজাতদের জন্য দুর্যোগের পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। তাই উদ্ধারকাজ থেকে শুরু করে আশ্রয়, চিকিৎসা, খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসিক সহায়তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। অনলাইন খবর (নেপাল)।
নেপালি কংগ্রেসের প্রধান হুইপ বাসনা থাপা সম্প্রতি বন্যাকবলিত রসুয়া এলাকা পরিদর্শন করে নারী ও শিশুদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তার অভিযোগ, বন্যাদুর্গত এলাকায় চালু হওয়া একক দরজা ব্যবস্থা নারী ও শিশুদের নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও অধিকারকে আড়াল করতে পারে। এসব অঞ্চলে বিশেষ করে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসম্মত সামগ্রী ও পরিচ্ছন্নতার উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। কেন্দ্র থেকে পাঠানো ত্রাণ এক জায়গায় জমে থাকলেও তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেও তিনি জানান। তার মতে, শুধু ত্রাণের কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মানুষের হাতে সঠিক সামগ্রী পৌঁছনোও জরুরি।
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র ডিআইজি নেত্র বাহাদুর কার্কির বক্তব্য, উদ্ধারকাজে নারী ও শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্ভব হলে নারী উদ্ধারকারীদের দিয়েই নারীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রবল স্রোত বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তা সবসময় সম্ভব নয়। তখন যার জীবন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন, তাকেই আগে উদ্ধার করা হয়। পুরুষদের জীবনকে উপেক্ষা করে নারী বা শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি এমন নয়। তবে উদ্ধার শেষ হওয়ার পর গর্ভবতী নারী, প্রসূতি, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ প্রয়োজনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দীপার মতে, তাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হবে। রাস্তা বন্ধ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আকাশপথেও সরিয়ে নেওয়া জরুরি। বন্যার জল থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাই নিরাপদ জল, পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। জমে থাকা জল আবার মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। উদ্ধারকাজের সময় আঘাত এড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গর্ভাবস্থায় আঘাত গর্ভপাত, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য জটিলতার কারণ হতে পারে।
নারীদের মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ত্রাণের অংশ হওয়া উচিত। চাল, ডাল, জল, পোশাক ও ওষুধের পাশাপাশি স্যানিটারি প্যাড, অন্তর্বাস, সাবান এবং জীবাণুনাশক সামগ্রী প্রয়োজন। আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ শৌচাগার ও স্নানের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
শিশুরাও দুর্যোগে দ্রুত শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশু বিশেষজ্ঞ বাবুরাম কার্কি জানান, ঠান্ডা পানি বা কাদায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যা, নিউমোনিয়া এবং বিপাকীয় জটিলতা দেখা দিতে পারে। কাদা, পাথর বা ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে হাড় ভাঙা বা অন্য আঘাতের ঝুঁকিও থাকে। তাই উদ্ধারের পর দ্রুত মুখ-নাক পরিষ্কার করা, শরীর গরম রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। শিশু অধিকারকর্মী গৌরী প্রধান মনে করেন, শিশুদের উদ্ধার করতে গিয়ে শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নয়, তাদের ভয় ও মানসিক অবস্থার কথাও ভাবতে হবে। আতঙ্কিত শিশুকে আশ্বস্ত করে বলা দরকার তুমি নিরাপদ, আমরা তোমার পাশে আছি। বাবা-মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের সাধারণ ত্রাণপ্রার্থীদের মধ্যে না রেখে নিরাপদ কেন্দ্রে রেখে পরিবারের সন্ধান করা প্রয়োজন।







