হঠাৎ রাশিয়া সফরে সিআইএ প্রধান

জন র্যাটক্লিফ- রয়টার্স
মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জন র্যাটক্লিফের অঘোষিত সফর ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা যখন কার্যত থমকে আছে, ঠিক তখনই মঙ্গলবার সিআইএ প্রধানের মস্কো যাত্রা এবং একই সময়ে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজের রুশ রাজধানীতে গোপনীয় আগমন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য বা রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো কেউই কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণের তথ্যেও দেখা গেছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক উড়োজাহাজ লাটভিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ায় গেছে। পরে মঙ্গলবারই সেটি রাশিয়া ছেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক এখন বিরল।।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সি-১৭ পরিবহন উড়োজাহাজটিকে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে রিগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে এবং সকাল ৭টা ৪ মিনিটের দিকে রুশ রাজধানীতে অবতরণ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিকেল ৪টার কিছু আগে এটি মস্কো ছেড়ে যায়।
সিআইএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই রাশিয়ায় র্যাটক্লিফের প্রথম সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় তার গোয়েন্দা সংস্থার সমপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
রাশিয়ায় এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক কারেলিনার মুক্তির জন্য হওয়া আলোচনাতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। ইউক্রেনকে সহায়তা করার অভিযোগে কারেলিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তিতেও সিআইএ ভূমিকা রেখেছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাশিয়া সফর করা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাটক্লিফকে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছর আলাস্কায় এক শীর্ষ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ওই বৈঠক থেকে কোনো অগ্রগতি আসেনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে গেছে।
সূত্র: বিবিসি







