বিশ্বকাপ টিকিটের দাম বেশি
কম খরচে ৭ দেশ ঘুরে ম্যাচ দেখলেন তরুণ

বসনিয়ায় উইল ভিকার্স- রয়টার্স
ফুটবলের এক পাঁড় ভক্ত উইল ভিকার্স। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই সেখানে যাওয়ার খরচ তার সাধ্যের বাইরে। তার ওপর ম্যাচের টিকিটের দামও আকাশচুম্বী। তবে টুর্নামেন্টের আমেজ থেকে নিজে বঞ্চিত করেননি। বের করেছেন এক অভিনব উপায়।
বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার টিকিট ও যাতায়াত খরচের টাকা দিয়ে সাত দিনে ঘুরেছেন সাতটি দেশ। স্থানীয় ফুটবল ভক্তদের সঙ্গে উপভোগ করেছেন পৃথক সাতটি ম্যাচ।
যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটিতে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন ২১ বছরের উইল ভিকার্স। তার ভাষ্য, ‘আমি সেখানে (স্টেডিয়ামে) থাকতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কিন্তু তা ছিল আমার সামর্থের বাইরে। আর শুধু নিজের ঘরে বসে একলা ম্যাচগুলো দেখাও আমার পছন্দ ছিল না।’
এই আইডিয়াটি তার মাথায় আসে চলতি মাসের শুরুর দিকে। বন্ধুদের সঙ্গে মারাকেশে (মরক্কো) ছুটি কাটানোর সময়। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে বসে তারা মরক্কো বনাম ব্রাজিলের ড্র হওয়া ম্যাচটি দেখেন। সেই অভিজ্ঞতার পর ভিকার্সের মনে ভিন্ন অনুভূতি জাগ্রত হয়। মাঠে বসে খেলা না দেখার আক্ষেপ দূর হয়ে যায় তার। তখন এক বন্ধু পরামর্শ দেন এভাবেই বিভিন্ন দেশ ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে খেলা দেখার। ভিকার্সও রাজি হয়ে যান এই ভেবে, ‘২১ বছর বয়স তো আর বিশ্বকাপে বারবার আসবে না।’
মাঠে গিয়ে খেলা দেখার তুলনায় ভিকার্সের এই ট্যুরগুলো বেশ সস্তা। যাত্রার প্রথম ধাপে ভিকার্স ম্যানচেস্টার থেকে বিমানে ও বাসে বেলজিয়ামের শার্লেরোয়া এবং পরে ব্রাসেলস পৌঁছান। এই যাত্রায় তার খরচ হয় মাত্র ৫৩ ডলার। সেখানে একটি ফ্যান জোনে বসে তিনি বেলজিয়াম বনাম ইরানের ম্যাচ উপভোগ করেন। এরপর আরেকটি বাস ধরে চলে যান প্যারিসে। সেখানে এক রাত থেকে ফ্রান্স বনাম ইরাকের ম্যাচ দেখতে তার খরচ হয় মাত্র ৬০ ডলারের মতো।
পরের গন্তব্য ছিল বসনিয়ার তুজলা। তার মতে, ওখানকার পরিবেশটাই ছিল সবচেয়ে সেরা। কাতারের বিপক্ষে বসনিয়ার ৩-১ গোলের জয় উদযাপনে ভক্তরা মাঝরাত পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি নিয়ে হর্ন বাজাচ্ছিল। আর গান গাইছিল। এরপর বসনিয়া থেকে বাসে করে ক্রোয়েশিয়ার স্লাভোনস্কি ব্রডে যেতে তার ৫২ ডলার খরচ হয়। সেখানে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি হোটেল চেক-ইন মিস করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার সোফায় রাত কাটাতে হয় তাকে। ইংল্যান্ডে ফেরার আগে সুইডেন ও নরওয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ভিকার্সের।
সব মিলিয়ে ভিকার্সের অনুমান, তার এই পুরো ভ্রমণে প্রায় ৬০০ ডলার খরচ হবে। এটি সশরীরে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার খরচের তুলনায় একেবারেই সামান্য। স্টেডিয়ামের ভেতরের আবহাওয়ার সঙ্গে এর তুলনা না হলেও, অভিজ্ঞতাটি খুব কাছাকাছি বলেই মনে করেন তিনি। ভিকার্স বললেন, ‘সরাসরি মাঠে বসে ম্যাচ দেখার মতো না হলেও কোনো অংশে কম নয়।’




