‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ফোনালাপ
ফোন রাখতে চাইছিলেন না ট্রাম্প-পুতিন, দেড় ঘণ্টা চলল আলাপ

ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শুক্রবার ফোনালাপটি ‘খুবই অর্থবহ ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ ছিল। ফোনালাপ শেষে দুজনের কেউই আগে কল কাটতে চাননি বলে ক্রেমলিনের এক সহযোগীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স।
ফোনালাপে জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে রাশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানান দুই প্রেসিডেন্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেন।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপের বেশির ভাগ সময় জুড়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শিগগিরই তিন পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন পুতিন।
ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক সহযোগী ইউরি উশাকভের বরাত দিয়ে শনিবার ইন্টারফ্যাক্স জানায়, ফোনালাপটি দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল।
উশাকভ বলেন, ‘দুজনের কেউই প্রথমে ফোন রাখতে চাননি। তারা একই সময়ে, আক্ষরিক অর্থেই একই মুহূর্তে ফোন রেখেছেন।’
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে কিয়েভ। শুক্রবার ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর ডিজেল সরবরাহের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অস্বাভাবিকভাবে সরাসরি ভাষায় তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বিধিনিষেধও ছিল। যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত থমকে আছে। এর অন্যতম কারণ ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার দাবি করা, যেগুলোর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে নেই।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মিয়ামিতে বৈঠক করেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি অভিন্ন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই ছিল বৈঠকের লক্ষ্য। পরে প্রস্তাবটি রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।




