বক্তৃতা পুরনো, মৃতরা নতুন
শান্তির নামে বার্ষিক যুদ্ধসভা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৮১তম অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে পৃথিবী কয়েক দিনের জন্য খুব ভদ্র হয়ে যায়। নিউইয়র্কের রাস্তায় কালো গাড়ির লাইন পড়ে যায়। পতাকা ওড়ে। রাষ্ট্রপ্রধানরা আসেন, প্রধানমন্ত্রীরা আসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আসেন। সঙ্গে উপদেষ্টা, কর্মকর্তা, নিরাপত্তাকর্মী, সহকারীর সহকারী। রাষ্ট্র ছোট হতে পারে, বহর ছোট হলে চলে না। রাস্তা বন্ধ হয়, হোটেল ভরে যায়, করমর্দন হয়, ছবি ওঠে। জাতিসংঘের বিশাল হলঘরটি এ বছর যেন পৃথিবীর সবচেয়ে পরিপাটি যুদ্ধঘর। সামনে মাইক্রোফোন, মাথার ওপর আলো, পেছনে অনুবাদক; আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে একের পর এক রাষ্ট্রনায়ক শান্তির কথা বলতে বলতে যুদ্ধের দরজা খুলে দিচ্ছেন। কেউ সতর্ক করছেন, কেউ হুমকি দিচ্ছেন, কেউ বলছেন—সহ্যের সীমা শেষ। কেউ দিচ্ছেন যুদ্ধের হুঙ্কার। কূটনীতির ভাষা বড় সভ্য; সেখানে ‘প্রতিরোধ’ শব্দের আড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, ‘জবাব’ শব্দের ভেতরে থাকে ধ্বংসস্তূপ। আবার সবশেষে তারা একই মঞ্চে উঠে বলেন ‘আমরা যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’।
এই কথাটি গত বছরও বলা হয়েছিল। তার আগের বছরও। আগামী বছরও সম্ভবত বলা হবে। শুধু মাঝখানে যুদ্ধের জায়গা বদলাবে, মৃত মানুষের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হবে, সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণ ১২ মাসের বৈশ্বিক হিসাবটিই দেখুন। সশস্ত্র সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED-এর হিসাবে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত পৃথিবীতে ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাতে নিহত হয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। পৃথিবীর প্রতি ছয়জন মানুষের একজন কোনো না কোনোভাবে সংঘাতের সংস্পর্শে ছিলেন। ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন মিলিয়েই নথিভুক্ত সংঘাতের ৪০ শতাংশের বেশি ঘটনার অংশ। অর্থাৎ পৃথিবী যখন নিউইয়র্কে শান্তির বার্ষিক বক্তৃতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্য নানা প্রান্তে প্রতিদিন গড়ে শত শত মানুষ মরছিল।
একবার চোখ বন্ধ করে গাজার সেই শিশুটির কথা ভাবুন। এএফপির ফটোগ্রাফার বাশার তালেবের করা সেই ভিডিওতে জাবালিয়ার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক ছোট ছেলেকে একা হাঁটতে দেখা যায়। বয়স কত হবে? তিন কি চার। গাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে সেই শিশু একা হেঁটে চলছে কাঁপা পায়ে। কোথায় যাবে, সে জানে না। কার কাছে যাবে, তাও জানা নেই। তার হাঁটায় তাড়া নেই, কান্নাও নেই। যে হাত একসময় মায়ের আঙুল ধরত, সে হাত এখন নিজের জামার কোণা চেপে ধরে আছে। যে চোখ বাবাকে খুঁজত, সে চোখে এখন অনিশ্চিত পৃথিবীর ছায়া। রাস্তার পাশে খাবার দেওয়া হচ্ছে। অন্য শিশুরা এগিয়ে যাচ্ছে। সে যায় না। ক্ষুধা আছে নিশ্চয়ই, কিন্তু ক্ষুধারও তো একজন আপন মানুষ লাগে—যার কাছে বলা যায়, ‘আমার খিদে পেয়েছে।’ তার আর সে মানুষটি নেই। সে শুধু হাঁটে। চারপাশে ধুলো, পোড়া দেয়াল, ভাঙা কংক্রিট, আর মানুষের চিৎকারের পরে নেমে আসা এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতার মধ্যেই শিশুটি যেন হঠাৎ বড় হয়ে যায়—এত বড়, যে খাবার চাইতে লজ্জা পায়; এত একা, যে বেঁচে থাকাটাও তার কাছে আর কোনো দাবি নয়। তার সামনে রাস্তা আছে। কিন্তু পাশে কেউ নেই। গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একা হাঁটা ছোট ছোট শিশুর ছবি পৃথিবী বহুবার দেখেছে। কারও বাড়ি নেই, কারও মা নেই, কারও বাবা নেই। তাদের মধ্যে কারও নাম জানা যায়, কারও যায় না। তাদের এই পরিসংখ্যানের পাশে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ঝলমলে হলঘরটিকে রাখলে ব্যাপারটা খুবই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের জন্ম হয়েছিল যুদ্ধ থামানোর জন্য। এখন সেখানেই যুদ্ধের হুঙ্কার সবচেয়ে স্পষ্ট শোনা যায়। বক্তৃতা শেষ হয়, করতালি পড়ে না, তারপরেও নেতারা হাত মেলান, হাসিমুখে ছবি ওঠে। তারপর সবাই হেসে খেলে হোটেলে ফেরেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ১৯৪৫ সালে মানুষ ভেবেছিল—অনেক হয়েছে। এবার মানুষ শান্তির কথা বলবে। যুদ্ধের আগে অন্তত একবার একই টেবিলে বসবে। আশি বছরের বেশি সময় পরে দেখা যাচ্ছে, টেবিলটি আছে, চেয়ার আছে, অনুবাদের হেডফোন আরও উন্নত হয়েছে কিন্তু শান্তি আসেনি। বরং মানুষ মারার প্রযুক্তি দিনদিন দ্রুত উন্নত হয়েছে।
এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজা যেন সেই ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবে গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। যুদ্ধের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা-কর্মী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে রয়টার্স।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের শান্তির মঞ্চে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণে যে নির্মমতা আর অনুশোচনাবোধহীনতা উঠে এসেছে এতে বোঝা গেছে এই বিশ্বমঞ্চে শান্তির চেয়ে অশান্তির প্রদর্শনীই বেশি চর্চা হচ্ছে আজকাল। যদিও তিনি মঞ্চে উঠতেই বহু দেশের প্রতিনিধি উঠে চলে গিয়েছিলেন। সামনে পড়েছিল সারি সারি খালি চেয়ার—যেন সভ্য পৃথিবীর একসঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। কিন্তু নেতানিয়াহুর তাতে বিশেষ কিছু গেল-এল না। বরং যারা বেরিয়ে গেলেন, তাদেরই তিনি ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আক্রমণ করলেন। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘকেই যেন তিনি বোঝালেন—তোমাদের আপত্তি তোমাদের কাছে রাখো, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত আমার। গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষার ভাষায় ব্যাখ্যা করলেন, ইরানে হামলাকেও সহজ সিদ্ধান্ত বলে তুলে ধরলেন।
নেতানিয়াহুর ভাষণ শেষ হওয়ার পরও জাতিসংঘের মঞ্চে যুদ্ধের হুংকার থামেনি। এবার মাইক্রোফোনে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ইরানকে এমন ভাষায় সতর্ক করলেন, যা কূটনীতির অভিধানের চেয়ে যুদ্ধের অভিধানেই বেশি মানায়। চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ যেন অদ্ভুত এক সময়ের অদ্ভুত দৃশ্য। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক রাষ্ট্রপ্রধান বলছেন শান্তির কথা, আবার একই নিঃশ্বাসে আরেক রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার সম্ভাবনাও উচ্চারণ করছেন।
ইরানের দিকে ফেরা যাক
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে ইরানের দেওয়া হিসাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৮০৬ জনের বেশি। একই সময়ে ডঐঙ স্বাস্থ্যসেবার ওপর ২৬টি হামলা নথিভুক্ত করেছে; নিহত হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে মিনাবে। একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হন।
একটি মেয়েদের স্কুল। সকালবেলা হয়তো কেউ অঙ্কের খাতা নেয়নি বলে বকা খেয়েছিল। কারও চুলে মা ফিতা বেঁধে দিয়েছিলেন। কেউ পরীক্ষার ভয় নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল। পৃথিবীর পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাব তারা জানত না। তারপর আকাশ থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নেমে এল। ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে।
সেপ্টেম্বরে সেই পৃথিবীর নেতারাই আবার নিউইয়র্কে জড়ো হলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটিকে ‘বিলুপ্ত’ করার হুমকি দিলেন।
শান্তির জন্য তৈরি মঞ্চ। সেখানে দাঁড়িয়ে একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করার শব্দ। ব্যাপারটা এত অদ্ভুত যে ব্যঙ্গ করার জন্য আলাদা করে বাক্য বানানোরও দরকার পড়ে না। জাতিসংঘ নিজেই যেন নিজের কার্টুন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ইউক্রেনেও একই গল্প অন্য ভাষায় চলছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শহর, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং বেসামরিক বসতি আক্রান্ত হচ্ছে। যুদ্ধ কয়েক বছর পেরিয়ে গেছে। সামরিক মানচিত্রে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার জমি নিয়ে হিসাব হয়। কিন্তু পৃথিবীর সেেবদশরই সাধারণ মানুষের মানচিত্র এক। সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট, একটি রান্নাঘর, একটি স্কুল, একটি সন্তানের ঘর। সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে সেটি গ্রিড রেফারেন্স; কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে সেটাই তার পৃথিবী।
প্রশ্ন হলো এই জাতিসংঘ তাহলে কী করে?
প্রতি বছর এত মানুষ নিউইয়র্কে যায় কেন? এত গাড়ি, এত হোটেল, এত প্রতিনিধি, এত নিরাপত্তা, এত বক্তৃতা—শেষ পর্যন্ত শান্তিটা কোথায়? পৃথিবীজুড়ে মানুষ মরছে। নিউইয়র্কে বলা হচ্ছে—আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানুষ আরও মরছে—আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। হাসপাতাল আক্রান্ত—আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। স্কুলে শিশু মারা গেল—তদন্ত চাই। তারপর আবার বোমা পড়ে। আবার বিবৃতি। আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে নবায়নযোগ্য সম্পদ সম্ভবত ‘গভীর উদ্বেগ’। মানুষ মারা যায়। উদ্বেগ শেষ হয় না। ট্র্যাজেডিটা অন্য জায়গায়। জাতিসংঘ আহত শিশুটির ক্ষত বেঁধে দিতে পারে। কিন্তু যে বোমাটি শিশুটির ওপর পড়বে, সেটি থামাতে পারে না। এ যেন পাড়ায় একজন খুব ভালো ডাক্তার আছেন। মারামারি বন্ধ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। মাথা ফেটে গেলে সেলাই করেন। পরের সপ্তাহে আবার মাথা ফাটা নিয়ে রোগী আসে।
আসলে পৃথিবীর বড় শক্তিগুলো জাতিসংঘকে যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ততটুকুই শক্তিশালী। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ব্যবস্থা এমন এক পরিবার তৈরি করেছে যেখানে ১৯৩ জন সদস্য থাকলেও পাঁচজনের হাতে আলাদা চাবি। বাকিরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারে—খুলুন। ওই ৫ জনের একজন বললেই হয়—খুলব না। ব্যাস, ওই ১৯৩ জনের আর ভেতরে ঢোকা হয় না। তারপরও সভা বসে। শান্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এত কিছু বোঝে না, বোঝার দরকারই বা কী? ঢাকার একজন দিনমজুর, গাজার একজন বাবা, তেহরানের একজন মা, কিয়েভের একজন বৃদ্ধ—তাদের রাজনীতি আশ্চর্যভাবে একই। তারা বিশ্বব্যবস্থা বদলাতে চায় না। তারা শুধু চায়, সকালে যে সন্তান স্কুলে গেল, বিকেলে সে ফিরে আসুক। হাসপাতালে গেলে হাসপাতালটিতে যেনো বোমা না পড়ে। রাতে আকাশের শব্দ শুনে যেন বোঝার চেষ্টা করতে না হয়—এটি যাত্রীবাহী বিমান, না ক্ষেপণাস্ত্র। একজন বাবাকে যেন সন্তানের জন্য খাবার আনতে পঁচিশ কিলোমিটার হাঁটতে না হয়।
এবারের সাধারণ পরিষদের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য হয়তো কোনো নেতার বক্তৃতা নয়। বরং খালি চেয়ার। নেতানিয়াহু কথা বলছেন। প্রতিনিধিরা উঠে যাচ্ছেন। বাইরে মানুষ প্রতিবাদ করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প একই শান্তির মঞ্চ থেকে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিচ্ছেন। মহাসচিব যুদ্ধ থামাতে বলছেন। সবাই একই ভবনে। কিন্তু কেউ কারও কথা শুনছে না। জাতিসংঘ এখন যেন পৃথিবীর একটি বিশাল পারিবারিক বৈঠক। সবাই উপস্থিত। সবার অভিযোগ আছে। পাঁচ বড় ভাইয়ের হাতে চাবি। সম্পত্তির মামলা চলছে। উঠোনে আগুন। তবু বছরে একবার সবাই ভালো জামা পরে পারিবারিক ছবি তোলে। ছবির নিচে লেখা থাকে—বিশ্বশান্তি। পরের দিন সবাই যে যার বাড়ি ফিরে যায়। নিউইয়র্কের রাস্তা খুলে যায়। কালো গাড়ি কমে যায়। হোটেল খালি হয়। সাধারণ পরিষদের হল পরিষ্কার শুরু হয়। অনুবাদের হেডফোন গুছিয়ে রাখা হয়।
এদিকে পৃথিবীর সাধারণ মানুষেদের জীবন সেই গতানুগতিক পথে। সেখানে গাজার বাবা পরের দিনের জন্য খাবার খুঁজতে বের হন। ইরানের কোনো মা মেয়ের স্কুলব্যাগটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। ইউক্রেনের কেউ রাতে সাইরেন শুনে ঘুম থেকে ওঠেন। সুদানের কেউ বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেন।
অন্যদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাচের ভবনের সামনে পতাকা উড়তে থাকে। তৈরি হতে থাকে পরের সেপ্টেম্বরের জন্য। আবার গাড়ি আসবে। আবার বহর আসবে। আবার শান্তির কথা হবে। আবার বলা হবে—‘যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে’।



