ফুটবল, প্রযুক্তি ও সংগীতের আয়োজনে টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রযুক্তি, ফুটবল ও সংগীতের সমন্বয়ে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’। টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পনসর প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেকনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রজেকশন ও লেজার শো, সংগীত, রোবোটিকস এবং দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিনির্ভর নানা পরিবেশনার আয়োজন করে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সাজানো হয় পুরো অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন। এ সময় ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাসওয়ার উমারু লেব্বে, সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল এবং আইস্মার্টইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজওয়ানুল হক। ট্রফি উন্মোচনের পর অতিথিরা মাঠে গিয়ে খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং শুভেচ্ছা
আয়োজন সম্পর্কে টেকনো বাংলাদেশের পক্ষে আইস্মার্টইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা, যা মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসে এবং স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করে। টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে সেই মুহূর্তগুলোকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাই। আর সেই ভাবনা থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুটবল, সংগীত ও দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরেছি, যাতে দর্শকেরা এক
এই অংশীদারত্বের পেছনে টেকনোর বৃহত্তর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক জ্যাক গুও বলেন, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা, যা মানুষের আবেগ, দৃঢ়সংকল্প ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে তুলে ধরে। এই মানবিক গুণগুলো টেকনোর ব্র্যান্ড পরিচিতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম তরুণ ও প্রাণবন্ত অঞ্চল। তাই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা আধুনিক প্রযুক্তিকে এখানকার মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে চাই। পাশাপাশি তরুণদের বড় স্বপ্ন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল আলোর ঝলকানি। প্রজেকশন ও লেজার শোর মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। পরে মাঠজুড়ে লেজার ম্যাপিংয়ের সাহায্যে তুলে ধরা হয় চ্যাম্পিয়নশিপের পরিচিতি ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নানা চিত্র। আলো ও প্রযুক্তির এই আয়োজন পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয়ের পরিবেশনা। টেকনোর বিশেষ অতিথি শিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠেন তিনি। ফিফা বিশ্বকাপে ‘সির সির’ পরিবেশনার পর এবার দেশের দর্শকদের সামনে আন্তর্জাতিক মঞ্চের সেই উদ্দীপনা তুলে ধরেন সঞ্জয়। টেকনোর বিশেষ জ্যাকেট পরে প্রায় ২০ মিনিটের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক সংগীতের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় সুরের মিশ্রণ ঘটান তিনি। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে দর্শকদের মধ্যে উৎসবের
উদ্বোধনী আয়োজনের বাইরেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রেখেছে টেকনো। বাংলাদেশের টেকনো ব্যবহারকারীরা ‘এলা এআই’-এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই সহকারীর সাহায্যে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে পূর্বাভাস, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সংক্ষিপ্ত চিত্র এবং ফুটবলবিষয়ক বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে সহজেই ম্যাচের হালনাগাদ তথ্য জানা এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন মুহূর্ত উপভোগ করা যাবে।
এলা এআইয়ের এসব সুবিধার মাধ্যমে ফুটবলের সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ আরও বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। টেকনোর লক্ষ্য, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্মার্টফোনকে ব্যবহারকারীদের স্মার্ট সঙ্গী হিসেবে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ম্যাচ অনুসরণ, ফুটবল নিয়ে আলোচনা এবং খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ ও ভাগ করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
শুধু স্মার্টফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই আয়োজন। স্টেডিয়াম এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য থাকছে টেকনোর বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা অঞ্চল, ডিজিটাল কার্যক্রম ও মোবাইল প্রযুক্তির প্রদর্শনী। এসব আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকেরা টেকনোর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সরাসরি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। পাশাপাশি ম্যাচের ফলাফল নিয়ে পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ও ডিজিটাল প্রচারণায় অংশ নিয়ে টেকনো ক্যামন সিরিজের স্মার্টফোন জেতার সুযোগও থাকছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে টেকনোর সম্পৃক্ততা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে অংশীদারত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানটির। এ ছাড়া আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সঙ্গে চলমান সম্পৃক্ততা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোতে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তারা।
এই ধারাবাহিকতায় টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর টাইটেল স্পনসর হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে নিজেদের ‘স্টপ অ্যাট নাথিং’ ব্র্যান্ড দর্শন দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তুলে ধরতে চায় তারা। প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও সম্মিলিতভাবে ফুটবল উপভোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’। টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ছয়টি জাতীয় ফুটবল দল। এসব দলকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা একত্র হয়েছেন। পুরো প্রতিযোগিতায় ফুটবলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে উদযাপন এবং তরুণদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করতে নানা আয়োজন রেখেছে টেকনো।




