একতার বার্তায় শুরু বন্ধুতার উৎসব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খেলাধুলার আছে এক দুর্নিবার আকর্ষণ, যা লহমায় ভুলিয়ে দেয় ঝগড়া, বিভেদ, হানাহানি। একে অন্যকে বেঁধে ফেলে বন্ধুত্বের বাহুডোরে। এশিয়ান গেমস এমনই এক বৈরিতা ভুলে বন্ধুতা গড়ার এক বিশাল মঞ্চ। যে মঞ্চের পর্দা উঠল গতকাল শনিবার জাপানের নাগোয়া শহরে।
মিজুহো স্পোর্টস পার্ক স্টেডিয়ামে গতকাল সন্ধ্যার আকাশটা যেন ভরে উঠেছিল শান্ত-শুভ্র মেঘে। এশিয়ার ৪৬ দেশের ক্রীড়াবিদ-অফিসিয়ালরা যখন একে একে মাঠে এলেন নানা রঙের পোশাক পরে, হাতে যখন তুলে ধরলেন নিজ নিজ দেশের পতাকা, তখন ম্যাড়মেড়ে দুই ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আর অনর্থক, বিরক্তিকর ঠেকেনি। বরং বহু রঙ আর জাতির একাত্মতাই হয়ে উঠল গেমসের প্রতীক।
তাই তো যুগ যুগের রেষারেষি ভুলে জাপানে এসে হাজির উত্তর কোরিয়ার ১৮০ জনের বিশাল বহর। জাপান যে দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, সেই উত্তর কোরিয়াই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহর পাঠিয়েছে বৈরী দেশে! টোকিও-পিয়ংইয়ং এ গেমসের জন্যই অনেক আইন শিথিল করেছে।
তাই বলে এতদিনের বৈরিতা কি লহমায় দূর হয়ে যাবে? হয়তো না। তবে বৈরিতাকে বন্ধুতায় বদলে দেওয়ার চেষ্টা তো হচ্ছে এই গেমসের মধ্য দিয়েই। ইরানের কথাই ধরা যাক। আরব ভূখণ্ডের বিরাজমান অস্থিরতার অন্যতম কারণ ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দলের ক্ষমতার লড়াই। আরবের অনেক দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। অথচ এই এশিয়ান গেমসে সে শত্রুরাই হাজির এক ছাদের নিচে। পোশাকি স্লোগান ‘এক এশিয়ার স্বপ্ন’ নিয়ে।
গেমসে অংশ নিচ্ছে ৪৬ দেশের প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ। অলিম্পিকের পর বিশ্বে সবচেয়ে বড় গেমস এটাই।
যুদ্ধ ভুলে ফিলিস্তিন এবার এসেছে ১০৮ জনের দল নিয়ে। এর মধ্যে অ্যাথলেট ৬৭ জন। কিছু সময়ের জন্য এই মানুষগুলো শুধুই মনোযোগী থাকবে খেলা নিয়ে। তাদের কানে বাজবে না বোমার শব্দ, কিংবা স্বজন হারানোর আর্তনাদ।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বৈরিতার খবর কে না জানে। রীতিমতো যেখানে মুখ দেখাদেখি বন্ধের জোগাড়, সেখানে আয়োজকরা করে বসেন মস্তবড় এক ভুল। বুধবার ছেলেদের হকি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের আগে ভুলবশত দক্ষিণ কোরিয়ার জায়গায় বাজানো হয় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত। সিউল এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ঠিক। তবে বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি শুধুই একতা, শুধুই গেমসের সৌন্দর্যের স্বার্থে।
দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভূরাজনীতির নোংরা প্রভাব আছে। বছরের পর বছর ভারত-পাকিস্তান শত্রুতা নিয়ে কথা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কেও নেই আগের উষ্ণতা। তবে রাজনৈতিক বৈরিতা একপাশে রেখে নানা খেলায় এই দেশগুলোরও ক্রীড়াবিদদের দেখা হচ্ছে, হবে এবং হতেই থাকবে। খুব অন্যরকম কিছু না ঘটলে খেলার শুরু-শেষে ঠিকই হাত মেলাবেন ক্রীড়াবিদরা। এটাই বাড়িয়ে দেয় এমন গেমসের উপযোগিতা।
আগামী ১৫ দিন এশিয়ার অাধুনিকতম দেশ জাপানের এই নাগোয়া শহর মেতে থাকবে নানা খেলার সফল আয়োজন নিয়ে এবং অবশ্যই এশিয়ায় শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে।



