ব্যবধান কমিয়ে আনছে আফগানরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাসান মাহমুদকে চার মেরে ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন সেদিকউল্লাহ আতাল। তাতেই বোঝা যায়, আবুধাবির উইকেটে পেসারদের জন্য খুব বেশি কিছু নেই। বরং টিকে থাকলে রান হবে। সেই নীতিতেই ব্যাট করছে আফগানরা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ১৩৫ রানে।
৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। নাইম হাসান ১১* আর তাইজুল ইসলাম ছিলেন ৪ রানে অপরাজিত। সেখান থেকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহটা ৩৪৬ রানে পৌঁছায় মূলত নাঈমের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। ৬৭ বল খেলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৮ ওভার ৩ বল, আর যোগ করতে পারে ২৯ রানে। ইনিংস বিরতির পর আফগানিস্তান নামে ব্যাটিংয়ে, প্রথম বলে বাউন্ডারির পর একই ওভারের তৃতীয় বলেই কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন ওঠে তার বিরুদ্ধে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেন, কিন্তু বল ব্যাটের অনেকটা পাশ দিয়ে যাওয়াতে কোনো বিপদ হয়নি। হাসানের বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৭ রানে আউট হন আতাল। ইনিংসের ৬২তম বলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে আফগানিস্তানের।
দ্বিতীয় উইকেটে শহিদুল্লাহ এবং আব্দুল মালিক মিলে ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের। পরের সাফল্যও আসে ৬২ বল পরই! ১০.৪ ওভারে এবাদত হোসেনের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শহিদুল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহ ও মালিক লম্বা সময় ধরেই ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের। ১৫১ বল স্থায়ী হয় তৃতীয় উইকেট জুটি, যদিও এই সময়ে তারা যোগ করেন মাত্র ৭০ রান। অফস্টাম্পের বাইরের বলে, কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ব্যাটের আলতো ছোঁয়ায় বল লিটন দাসের হাতে পাঠান আব্দুল মালিক, ১২০ বলে ৬২ রানের ইনিংসটি পরিণতি পায় এভাবেই।
হাসান শুরুতে উইকেট এনে দিয়েছেন, এবাদতের জোড়া শিকার, তবে দিনের সেরা ডেলিভারিটা করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার হাওয়ায় ভাসানো বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি, স্টাম্পের পেছনে লিটনের কৃতিত্বও অবশ্য কম ছিল না এখানে। পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, তবে এরপর আর বিপদ বাড়তে দেননি ইকরাম আলি খিল ও রহমত শাহ। ৯১ বল খেলে ২৬ রানে অপরাজিত ইকরাম আলি খিল, ১৮৬ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত রহমত শাহ।
রানের অঙ্কে এখনো আফগানরা ১৩৫ রানে পিছিয়ে, তবে একটি জায়গায় তারা বাংলাদেশকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। সেটি হচ্ছে ইনিংসের স্থায়িত্ব। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছে ৯২.৩ ওভার, টেস্টে এক দিনের খেলার চেয়ে একটু বেশি। তানজিদ হাসান তামিম ইনিংসের শুরুতে দ্রুতগতিতে রান তোলায় এক দিনেই তিনশর বেশি রান তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। তবে আফগানরা টেস্ট খেলছে পুরনো দিনের মতো করেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে থাকা আফগানিস্তান টেস্ট খেলার সুযোগই পায় কম। তাই সুযোগটা কাজে লাগাতে এরই মধ্যে ৭৯ ওভার ব্যাটিং করে ফেলেছে তারা, ইনিংসের রানরেট ২.৬৭, যা আধুনিক যুগের টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে একদমই বেমানান। তবে এই পথের নতুন পথিক বলেই হয়তো আফগানরা বেছে নিয়েছে পুরনো পথ। ব্যাটারা উইকেটে সময় কাটাচ্ছেন, খেলছেন, শিখছেন।
নিয়মিত পাঁচ বোলারের বাইরে মুমিনুল হককেও বোলিংয়ে এনেছেন শান্ত। ২১ ওভার বল করে ৪৪ রান দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ১০ ওভারে দিয়েছেন ৩৭ রান। ২ পেসার ৩ স্পিনার নিয়েও আবুধাবিতে দ্বিতীয় দিনের উইকেটে খুব একটা দাঁত ফোটাতে পারেনি বাংলাদেশ। একই সমান ওভার বল করে আফগানরা বাংলাদেশের ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিল। একমাত্র টেস্টে এখন পর্যন্ত এটাই খুব সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।



