মিলানের অমর ৬

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্রাঙ্কো বারেসির নেতৃত্বে এসি মিলানের রক্ষণে দুর্গই গড়েছিলেন পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা ও মাউরো তাসোত্তিরা। তাদের নিখুঁত ট্যাকল, অভেদ্য অফসাইড ট্র্যাপ আর কৌশলে সিরি-এ-তে টানা ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিল মিলান। ফাবিও কাপেলোর ‘গ্লি ইনভিন্সিবিলি’ বা অপরাজিত দলের নেতা ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। গতকাল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এসি মিলান।
‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় এসি মিলান লিখেছে, ফ্রাঙ্কো বারেসির বিদায়ে এসি মিলান অশ্রুসজল। তার আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব ক্লাবের ডিএনএতে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে, ঠিক যেমন অমর হয়ে আছে তার আইকনিক ৬ নম্বর জার্সি।’
১৯৯৭ সালে রোমারিও-জিকোদের বিপক্ষে খেলোয়াড়ি জীবনের বিদায়ী ম্যাচের পর তার ৬ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দেয় মিলান। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল সম্মান পান বারেসি। আশির দশকের শুরুতে মিলান দুবার সিরি ‘বি’-তে নেমে গেলেও দল ছাড়েননি তিনি। সেই দুবারই মিলানকে সিরি-এতে ফেরানোয় রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
তখনকার শক্তিনির্ভর অন্য ডিফেন্ডারদের চেয়ে বারেসি ছিলেন একেবারে আলাদা। প্রতিপক্ষের খেলা পড়ার দারুণ এক ক্ষমতা ছিল তার। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাঝমাঠে বা আক্রমণে গতি এনে বিপ্লবই ঘটিয়েছিলেন ‘সুইপার’ পজিশনে। এজন্য জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে তার নাম হয়ে যায় ‘কাইজার ফ্রাঞ্জ।’ ডাচ কিংবদন্তি ফন বাস্তেন তাকে বলেছিলেন, ‘ডিফেন্ডারদের ইয়োহান ক্রুইফ।’
বারেসি ১৫ মৌসুম অধিনায়কত্ব করেন মিলানের। ৭১৯টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেছেন, জিতেছেন ছয়টি ইতালিয়ান লিগ শিরোপা, তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ এবং দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইউরোপীয় ফুটবলে রাজত্ব করা প্রজন্মের মূল কাণ্ডারি ছিলেন তিনিই।
১৯৬০ সালের মে মাসে লোম্বার্দিতে জন্ম নেওয়া ফ্রাঙ্কিনো ‘ফ্রাঙ্কো’ বারেসি এসি মিলানেই কাটিয়েছেন পুরো ক্যারিয়ার। বয়স ১৭ বছর হওয়ার আগেই মা-বাবা হারানো বারেসিকে আগলে রেখেছিলেন বড় ভাই জিউসেপ্পে। সেই ভাইয়ের বিপক্ষেই মিলান ডার্বিতে খেলতে হতো তাকে!
১৯৮০ ইউরোয় দুই ভাই ছিলেন ইতালিয়ান জাতীয় দলে। তবে ফ্রাঙ্কো বারেসি মাঠে নামার সুযোগ পাননি। একইভাবে ১৯৮২ বিশ্বকাপজয়ী দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি বারেসির। কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দলে জায়গা পাননি। খেলেছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত। আর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে হয়েছিলেন রানার্সআপ।
বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও তৃতীয় হওয়া সাতজন ফুটবলারের অন্যতম তিনি। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে ১২০ মিনিটের পুরোটা খেলে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন ব্রাজিলের রোমারিও-বেবেতোদের। তবে টাইব্রেকার মিস করেন তিনি!
বারেসির মতো নিজের পুরো ক্যারিয়ার এসি মিলানে কাটানো ৫৮ বছর বয়সী পাওলো মালদিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার ঠিক তেমনই লাগছে, যেমনটা যেকোনো কারণে তুমি আমাদের পাশে মাঠে নামতে না পারলে হতো। আমাদের ক্যাপ্টেন ছাড়া আমরা এখন কীভাবে সামলাব? তুমি আমাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করা শিখিয়েছ, জার্সির প্রতি সমর্পণ এবং সত্যিকারের নেতৃত্বের মূল অর্থ বুঝিয়েছ।’




