জুঁই-ফাহিম মিলেই করেছেন সর্বনাশ

ভারতের কাছে ১১৪ রানে হেরে এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশ নারী দলের। অবশ্য সম্ভাবনা যে ছিল, সেটা বলাও হবে ভুল। মাত্র ১০ দিন আগেই, এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছেই ৪০ রানে হেরে যাওয়ার স্মৃতিটা এখনো টাটকা। খেলায় হারজিত থাকবেই, তবে মাঠে লড়াকু মানসিকতাটা তো থাকা চাই। কিন্তু লড়াইয়ের ফিটনেসটাও যেন নেই ক্রিকেটারদের মধ্যে। ভারতের শেফালি ভার্মা একাই করেছেন ১০০ রান, অন্যদিকে বাংলাদেশের সব ব্যাটার মিলে করেছেন ৮১। সামর্থ্যের এই বিশাল ফারাকের অন্যতম প্রধান কারণ ফিটনেসের ঘাটতি, যার জন্য পূর্ববর্তী ক্রিকেট বোর্ডে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং তার আনুকূল্যেই নারী ক্রিকেট দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ফৌজিয়া হুদা জুঁইকেই দায়ী করলেন বিসিবির একজন কোচ।
বিকেএসপির সাবেক ক্রিকেট উপদেষ্টা ও কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের আনুকূল্যেই একসময়ের জাতীয় লং জাম্পার জুঁই বনে গেছেন নারী ক্রিকেটারদের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ। বিকেএসপিতে অ্যাথলেটিকস কোচ হিসেবে কাজ করছেন। সারা জীবন অ্যাথলেটিকস নিয়েই ছিলেন ব্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ করে তাকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। জুঁই লুকাননি ফাহিমের আনুকূল্যের কথা, সংবাদ মাধ্যমেও তখন বলেছিলেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবিতে বয়সভিত্তিক দলে কাজ করা একজন কোচ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘জুঁইই আমাদের নারী দলের সর্বনাশ করে গেছেন। তার আগে ইয়ান (ইয়ান ডুরান্ট)-এর সময়ে মেয়েদের ফিটনেসের অনেক উন্নতি হয়েছিল, জুঁই তো ক্রিকেটের মানুষ না। উনি ক্রিকেটারদের ফিটনেসের বিষয়টাই বুঝতে পারেননি। আমি ওনার কাজ দেখেছি কয়েকটা ক্যাম্পে। উনি আরও ক্রিকেটারদের ফিটনেস নষ্ট করেছেন।’ একই আলোচনা আছে বিসিবির ওমেন উইংয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও। জুঁই চাকরি ছাড়েন জুনে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের আগে, তার এক মাস আগে বিদায় নিয়েছিলেন বিসিবির ‘ক্ষমতাধর’ নাজমুল ফাহিম।
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-১৫ বালক ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলেছিলেন জ্যোতি-মারুফারা। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও অনূর্ধ্ব-১৫ বছর বয়সী ছেলেদের কাছে হেরেছে মেয়েদের দুটি দলই। তাদের বিপক্ষেই অল্প রানে আউট হওয়ারা ভারতের কাছে যে নাস্তানাবুদ হবে, সেটা তো জানা কথাই। তবে স্পষ্ট দেখা গেছে তাদের ফিটনেসের ঘাটতি। দৌড়ে দুই রান নিতে না পারা, ফিল্ডিংয়ে দৌড়ে চার বাঁচাতে না পারার দৃশ্য স্পষ্ট। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও শেফালি ভার্মার একাধিক ক্যাচ ছেড়েছেন নাহিদা, ফাহিমার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। বিসিবির কোচ বললেন, ফিটনেস ভালো না করলে খেলার মান বাড়বে না, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো করতে হবে, অন্তত শ্রীলঙ্কাকে আমাদের পেছনে ফেলতে হবে। তাদের সঙ্গে আমাদের খুব বেশি পার্থক্য নেই।’
এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়বেন জ্যোতি। তাকে কাছ থেকে দেখার আলোকে বিসিবির কোচ বললেন, সমস্যাটা একা জ্যোতির নয়, ‘আমি জ্যোতিকে কাছ থেকে দেখেছি, ব্যাটিং শিখিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার হাই পারফরম্যান্স দলের বিপক্ষে সে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিল। আমাদের দলের ম্যানেজমেন্টের কিছু লোকজনই সারাক্ষণ তাকে মাথায় তুলে রাখে, এতেই হয়তো সে নিজেকে অনেক ক্ষমতাবান মনে করছে।’
আসছে বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের (টি-টোয়েন্টি) আয়োজক বাংলাদেশ, আর এই আয়োজন সামনে রেখে আগামীর জন্য বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের সন্ধান দিলেন এই কোচ, ‘সামনের দিনে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার আছে। তাদের মধ্যে মোসাম্মৎ ইরা আছে, মিষ্টি রানী সাহা আছে, যারা ভালো ব্যাটিং করে, পেস বোলার পিঙ্কি জুনিয়র, দিশাসহ অনেকেই সিনিয়র দলের ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জ জানাবে।’
জাতীয় দলে শারমিন আক্তার সুপ্তা, ফাহিমা খাতুনরা নিজেদের সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন। এবার আসলে নতুনদের নিয়ে সামনের দিকে তাকানো উচিত।



