Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় পর্যালোচনা

আদ্যোপান্ত-বিশ্বকাপ বয়কট

একজনের রাগ-ক্ষোভের শিকার বিশ্বকাপ!

শিহাব উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩২
একজনের রাগ-ক্ষোভের শিকার বিশ্বকাপ!

চলতি বছর ২২ জানুয়ারি বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে খেলতে না যাওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছবি: মোশারফ হোসেন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গত মার্চে। বাংলাদেশে এতে অংশ নেয়নি, এরপরও এই বিশ্বকাপ নিয়ে তোলপাড় এ দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ওই আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কেন খেলতে যায়নি এ নিয়ে আছে নানান আলোচনা।

সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। গত মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। অথচ তিনিই দাবি করেছিলেন, বিসিবি ও ক্রিকেটাররা মিলেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলেনি, এটাই সত্যি। এ সিদ্ধান্তের আগে-পরের ঘটনা প্রবাহ এরকম :

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ : আইপিএলে দল পেলেন মোস্তাফিজ

শুরুটা হয়েছিল একটি আনন্দের ঘটনা দিয়েই। আইপিএলের ২০২৬ মৌসুমের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয়। তিনি ছিলেন আইপিএলের ওই মৌসুমে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার। কিন্তু খেলাটা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই যেন পড়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান।

৩ জানুয়ারি : মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে ভারতেও একদল কট্টরপন্থী দাঁড়িয়ে যায়। শিবসেনা, কট্টরপন্থী বিজেপি ও উজ্জয়িনী সনাতনি ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সাধু সমাজ মোস্তাফিজকে আইপিএলে না খেলাতে বিভিন্ন হুমকি দেয়।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিক দল শিবসেনার নেতা সঞ্জয় নিরুপম বলেছিলেন, ‘যখন পুরো দেশ বাংলাদেশের ওপর রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধ, এমনকি বাংলাদেশি কারও সঙ্গে ভারতীয় কোনো নাগরিকের ন্যূনতম সংযোগ নেই, ফলে তাদের কেউ এলে সেই ক্রোধের শিকার হবেন। যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার শাহরুখ খানের দলে থাকেন, তিনি মেজর টার্গেট হওয়ার আগেই আমাদের অনুরোধ, তাকে যেন বাদ দেওয়া হয়।’

উত্তরপ্রদেশের কট্টরপন্থী বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের হুঁশিয়ারি ছিল আরও কঠোর, ‘মোস্তাফিজুর রহমানের মতো খেলোয়াড়রা যদি ভারতে খেলতে আসেন, তবে তারা বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে পারবেন না— এটা আমার প্রতিজ্ঞা। শাহরুখ খানের মতো গাদ্দারদের এ বার্তাটি ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত। উনি আদতে দেশদ্রোহিতা করছেন।’

উজ্জয়িনী সনাতনি ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সাধু সমাজ সংগঠন থেকে হুমকি দেওয়া হয় মোস্তাফিজুর রহমান মাঠে নামার আগেই স্টেডিয়ামের পিচ খুঁড়ে ম্যাচ পণ্ড করে দেওয়া হবে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৎকালীন পরিস্থিতির বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর কেকেআর আনুষ্ঠানিকভাবে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

৪ জানুয়ারি : বিশ্বকাপ খেলবে, তবে ভারতে নয়

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পরদিন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়— বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ।

বিসিবি একই সঙ্গে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানায়। বিসিবির ব্যাখ্যা ছিল, ভারতের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শও তারা বিবেচনায় নিয়েছে।

তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিসিবির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

৫ জানুয়ারি : আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপ বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

৬ ও ৮ জানুয়ারি : আইসিসির সঙ্গে চিঠি চালাচালি

৬ জানুয়ারি আইসিসি বিসিবির কাছে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা চায়। ৮ জানুয়ারি বিসিবি দ্বিতীয় চিঠিতে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। বাংলাদেশের অবস্থান ছিল— বিশ্বকাপে খেলতে আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের মাটিতে খেলতে তারা নিরাপদ মনে করছে না।

১২ জানুয়ারি : তিন নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানান আসিফ নজরুল

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে বিসিবির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে— এমন তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাংলাদেশের দর্শকদের ভারতে ঘোরাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ঝুঁকির আরেকটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সামনে বাংলাদেশের নির্বাচন। নিরাপত্তার এ ইস্যুগুলো শুধু কলকাতার ভেন্যুকে কেন্দ্র করেই বলা হয়েছিল। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতা, মুম্বাইয়ে।

তবে একই দিন বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, যে চিঠির কথা আসিফ নজরুল বলেছেন সেটি আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বাংলাদেশকে ম্যাচ সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধের জবাব ছিল না; সেটি ছিল আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের নির্দেশনা।

১৭ জানুয়ারি : আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা করতে ১৭ জানুয়ারি আইসিসির একজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসেন। আরেক প্রতিনিধি গৌরব সাক্সেনা ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন। কিন্তু বাংলাদেশের দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। কারণ শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদলে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে তারা মত দিয়েছিল। যা বিসিবি মানেনি, তারা নিজেদের পুরনো অবস্থানে অনড়।

তিন দিন পর সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাব বা চাপের কারণে আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত দিলে বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না। তিনি ভারতের বদলে অন্য ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

২১ জানুয়ারি : আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এদিন বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত থাকবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় আইসিসি। সংস্থাটির মূল্যায়ন— বিভিন্ন নিরাপত্তা, স্বাধীন পর্যালোচনা করার পর বাংলাদেশি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন করাও সম্ভব নয় বলে জানায় আইসিসি। বাংলাদেশকে এরপর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, তা নিশ্চিত করতে সময় দেওয়া হয়।

২২ জানুয়ারি : বিশ্বকাপে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এদিন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বৈঠক হয় স্থানীয় এক হোটেলে। বৈঠকের পর আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘নিরাপত্তার কারণে বিশ্বকাপে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’

তিনি বলেছেন, অন্য দেশে নাগরিকদের পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি নির্ধারণের এখতিয়ার সরকারের। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় বাংলাদেশ দলের সেখানে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তখনো বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে রাখার বিষয়ে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

২৪ জানুয়ারি : বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায় ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।

আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি তারা গ্রহণ করেনি। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি বলে তারা উল্লেখ করেছে।

একই দিন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশকে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের পরিবর্তে চেন্নাই এবং তিরুভানান্থাপুরমে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ইতিবাচক বক্তব্য দেননি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ম্যাচগুলো চেন্নাই বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিসিসিআই কোনো তথ্য পায়নি এবং বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি বিসিবি ও আইসিসির বিষয়। যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসে তবে বিসিসিআই অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

অবশ্য ভেন্যু পরিবর্তন করে দিলেও বাংলাদেশ যে ভারতের ভেতরে খেলবে না, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিসিবি থেকে।

১০ ফেব্রুয়ারি : আসিফ নজরুলের বক্তব্য বদল

বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির ২ কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপের প্রশ্নই আসে না। সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তারা এ ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

অথচ ২২ জানুয়ারি, তিনিই বলেছিলেন— ভারতে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের। তার বক্তব্য পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে ক্রীড়াঙ্গনে।

২২ ফেব্রুয়ারি : আসিফ নজরুলকে ‘মিথ্যুক’ আখ্যা

বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার দায় আসিফ নজরুল ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়েছিলেন। এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসিফ নজরুলকে ‘মিথ্যুক’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যে বলছেন। শিক্ষকরা এমন মিথ্যে কথা কমই বলেন। তিনি যে এমন খোলাখুলি মিথ্যে কথা বলবেন, আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না। ছেলেদের সামনে আমি নিজের মুখ দেখাব কী করে এটাই ভাবছিলাম। সম্পূর্ণ উল্টো বলছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, দেশের সর্বসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি এমন মিথ্যে বলছেন, এটা তো মানা যায় না। এটা আমরা কীভাবে মেনে নেব? তিনি শুরুতে এক কথা বলেছিলেন এবং এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছেন।’

১১ মে : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানের ঘোষণা দেন। গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ কে এম অলি উল্যা, সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ছিলেন এই কমিটির সদস্য।

১৫ সেপ্টেম্বর : তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন তথ্য

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেছিলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ সবকিছু মিলিয়ে দেখেছি। বিশ্বকাপে না যাওয়ার দায় তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের। সেই সঙ্গে তখনকার সরকারও দায়ী।’

তদন্ত কমিটির এই প্রতিনিধি আরও বলেছেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’

আসিফ নজরুলের স্বীকারোক্তি

প্রতিবেদন প্রকাশের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ফেসবুক পোস্টে তার প্রতি অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন।

সাবেক উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘কেন ভারতে যাইনি? ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী (উপদেষ্টা) হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’

নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক দাবি করে আসিফ নজরুল যোগ করেন, ‘সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কী বলছেন

ভবিষ্যতের জন্য এ তদন্ত প্রতিবেদনটি শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি আজ বুধবার এ নিয়ে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এই তদন্ত রিপোর্ট ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যে কেউ আর খেলাধুলায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটাতে পারবে না। কারণ হলো, একজন খেলোয়াড় চাইবে খেলতে, তাও বিশ্বকাপের মতো জায়গায়। সেখানে আপনি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা রাগ মেটাতে পারেন না। আর তা মেটাতে গিয়ে দলই পাঠালেন না!’

তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন বাংলাদেশ অংশ নেয়নি, তার কারণটা খুঁজে বের করে নিতে। জাতির সামনে সঠিক কারণটা বের হয়ে আসুক। কে বা কারা এর জন্য দায়ী ছিল। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে একজনের নাম এসেছে। সেখানে সুপারিশও আছে। এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।’

আসিফ নজরুলবিশ্বকাপটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপবিসিবিমোস্তাফিজুর রহমানবিশ্বকাপ বয়কট
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    দরিদ্র তালিকায় খরচ বাড়ল ১৭৯৪ কোটি টাকা

    দরিদ্র তালিকায় খরচ বাড়ল ১৭৯৪ কোটি টাকা

    বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর

    বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর

    কড়া নাড়ছে এজিআই

    কড়া নাড়ছে এজিআই

    ভূরাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র মরু-সীমান্তের সংঘাত

    ভূরাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র মরু-সীমান্তের সংঘাত

    মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির

    মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির

    লিম্ফোমা চিকিৎসা ও আমাদের করণীয়

    লিম্ফোমা চিকিৎসা ও আমাদের করণীয়

    এক বার্তায় নিঃস্ব খামারি

    এক বার্তায় নিঃস্ব খামারি

    অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার

    অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার

    আগুনের পর কী ঘটেছিল ময়মনসিংহ মেডিকেলে

    আগুনের পর কী ঘটেছিল ময়মনসিংহ মেডিকেলে

    প্রশ্নের মধ্যেই অনুমোদন পেল মেট্রোরেলে ৩ প্রকল্প

    প্রশ্নের মধ্যেই অনুমোদন পেল মেট্রোরেলে ৩ প্রকল্প

    শরীরে ডায়াবেটিসের প্রভাব

    শরীরে ডায়াবেটিসের প্রভাব

    বিদেশি ফার্নিচার ও কর্মকর্তাদের সম্মানী নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি ফার্নিচার ও কর্মকর্তাদের সম্মানী নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    যখন নদী কেড়ে নেয় ভিটে

    যখন নদী কেড়ে নেয় ভিটে

    সৌদিতে হুতিদের হামলা, পাকিস্তান কোথায়

    সৌদিতে হুতিদের হামলা, পাকিস্তান কোথায়