বাংলাদেশ অলিম্পিকে ভাঙন
একদিনেই তিনজনের পদত্যাগ

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনজন। এরমধ্যে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ছেড়েছেন বিওএ’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব। নির্বাহী সদস্য পদ থেকে সরে গেছেন ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি ও সাবেক ফুটবল তারকা রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির এবং বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল।
তিনজনই পদত্যাগ ও অব্যাহতির পেছনে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। তবে এমন কিছু যে হবে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল এশিয়ান গেমস চলাকালীন। গত বছর ৩০ নভেম্বর বিওএ’র মহাসচিব নির্বাচত হন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জোবায়েদুর রহমান রানা। আলোচিত সেই কমিটির সদস্য ইমরোজ আহমেদ বিনা ভোটে নির্বাচিত হন সহ-সভাপতি। অভিযোগ আছে, এরপর থেকে এই দুইজন মিলেই বিওএ নিজেদের ইচ্ছামতো। পরিচালনা করেছেন। অন্যদের সেভাবে কাজের সুযোগই দেননি।
১৮ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একসঙ্গে ২৭টি ফেডারেশনের নেতৃত্বে রদবদল আনলে বিওএ’র কমিটিতে থাকা অনেকেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছিলেন। নিজ নিজ ফেডারেশন থেকে অপসারিত হওয়ার পর বিওএ’র বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সার্চ কমিটি সে সময় সকল ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি গঠন করার সুযোগ পেয়েছিল। সে সুযোগে নিজেদের লোকজন বিভিন্ন ফেডারেশনে বসানোর অভিযোগ উঠেছিল রানা ও ইমরোজের বিরুদ্ধে। পরবর্তিতে নিজেদের গঠিত কমিটিগুলো সরকার এক দিনে বদলে ফেলায় রুষ্ঠ হন তারা। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি সরকারের সমালোচনা করেছেন।
নিজেদের কাছের মানুষজন ফেডারেশন থেকে অপসারিত হওয়ায় অনেকটাই সঙ্গীহীন হয়ে পড়েছেন রানা ও ইমরোজ। এর মাঝেই বিওএ’র অদূরদর্শিতা ও অবহেলায় জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ভরাডুবি ঘটে। ভাগ্য জোড়ে একটি মাত্র ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে দেশে ফেরে ২৬০ জনের বিশাল বহর।
সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বিওএ ফেডারেশনগুলোকে আগেভাগে ক্যাম্প পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। অথচ অতীতে বিওএ নিজেদের তহবিল থেকে আগেভাগেই অর্থ বরাদ্দ দিত। সেই সহায়তা নিয়ে ফেডারেশনগুলো ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুত করতেন। এবার মাত্র এক মাস আগে বিওএ ফেডারেশনগুলোকে অর্থ বরাদ্দ দেয়। ফলে ক্রীড়াবিদরা পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। বিওএ’র দুই শীর্ষ কর্তা এর জন্য সরকারকে অর্থছাড় না করায় ঢালাওভাবে দায়ী করেছেন প্রকাশ্যে। তাছাড়া গেমস চলাকালীন ক্রীড়াবিদদের আবাসনের ব্যবস্থা ঠিকঠাক করতে না পারা নিয়েও সমালোচিত হতে হয় জাপানে থাকা বিওএ মহাসচিব ও শেফ দ্য মিশন হয়ে যাওয়া ইমরোজ আহমেদকে।
সহ-সভাপতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লা অবশ্য পদত্যাগের চিঠি দেওয়ার কারণ প্রকাশ্যে আনেননি, ‘ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি। এর বেশি কিছু এখন বলতে চাচ্ছি না।‘ ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করা রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির বলেন, ‘আমি তো ফুটবলের মানুষ। ফুটবলটাই বুঝি। এখানে তো ফুটবল নিয়ে সেভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। তাছাড়া বেশি সময়ও দিতে পারি না। তাই সরে দাঁড়ালাম।‘ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা তিনজনের পদত্যাগ পত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তিনজনের পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। কমিটিতে পদশূন্য হলে গঠনতন্ত্র ও আইওসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।’
ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কমিটি ভেঙে দেওয়ার অধিকার আছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মতো বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার নেই সরকারের। তাতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নেমে আসার ভয় থাকে। তবে কমিটির সদস্যরা সেচ্ছ্বায় সরে দাঁড়ালে কমিটি এমনিতেই অকার্যকর হয়ে পড়ে।



