এশিয়ান গেমস
সাবেক ফুটবলার বনে গেছেন হকি দলের কোচ!

সাবেক ফুটবল তারকা মিজানুর রহমান ডন। ছবি: সংগৃহীত
১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পর্দা উঠবে ২০তম এশিয়ান গেমসের। ২২টি ডিসিপ্লিনে থাকবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। অনেক নাটক শেষে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্বে আসা অনেককেই যুক্ত করা হয়েছে ২৯০ জনের বাংলাদেশ বহরে। জাপান সফরের জন্য মনোনীতদের সরকারি আদেশ (জিও) তালিকা এসেছে আগামীর সময়ের হাতে। যে তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ফেডারেশনের বেশ কজন কর্মকর্তাকে কোচ পরিচয়ে যুক্ত করা হয়েছে বহরে। এর মধ্যে কয়েকজন আছেন, যাদের কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা দূরে থাক, সংশ্লিষ্ট খেলার সঙ্গেও অতীতে কোনো যোগসূত্র ছিল না।
এশিয়াডকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দলের প্রস্তুতির একেবারে শুরু থেকে কোচের দায়িত্বে ছিলেন মশিউর রহমান বিপ্লব। সাবেক এই হকি তারকা পরবর্তীকালে জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। পরে অবশ্য তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হকি ফেডারেশন। বিস্ময়কর হলো, জিও তালিকায় ফেডারেশন কোচ হিসেবে যুক্ত করেছে ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ, সাবেক ফুটবল তারকা মিজানুর রহমান ডনের নাম! মানুষ ডনকে চেনে ফুটবলার হিসেবে। তবে তার যে হকি কোচিংয়ের প্রতিভাও রয়েছে, সেটা এই তালিকা দেখেই জানা গেল। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রিন্স, যিনি দলের সঙ্গে যাচ্ছেন দুজন দলনেতার একজন হিসেবে, দাবি করেছেন- বিওএ ভুল করে ডনের নামের পাশে কোচ উল্লেখ করেছে। আদতে তিনি যাবেন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে।
শুধু ডন নন, আরও অনেক কর্মকর্তা যাচ্ছেন কোচের পরিচয়ে। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান রহমান যাবেন কোচ পরিচয়ে। অথচ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করা ব্যাডমিন্টন দল এশিয়াডের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় কোচ জগদিশ যাদবের অধীনে। সেই ভারতীয় কোচের নাম অবশ্য নেই বাংলাদেশ বহরে।
একইভাবে জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী, উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলম যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিটি জাতীয় দলকে শুরু থেকে কোচিং করাচ্ছেন অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ আলী। অথচ তার যাওয়া হচ্ছে না দলের সঙ্গে।
কুস্তি ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন দুই পুরুষ রেসলার মাহামুব আলম ও আবদুল সাত্তার। অথচ তাদের কোচ করা হয়েছে অ্যামেচার কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শিরিন সুলতানা। ১৬ সদস্যের শুটিং দলে পিস্তল কোচ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে রাইফেল শুটিংয়ে দেশকে একাধিক আন্তর্জাতিক পদক এনে দেওয়া শারমিন আক্তার রত্নার নাম। রত্না বর্তমানে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের মূল কোচ রাশেদকে বাইরে রেখে সার্ফিং ফেডারেশন দুই সার্ফারের কোচ হিসেবে পাঠাচ্ছেন সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ সিফাতকে।
দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ১৫ জন অফিসিয়ালের নাম যুক্ত করেছে এনওসি (ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি) ডেলিগেট হিসেবে। যেখানে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হকের তিনজন একান্ত সচিবের নামও। এ ছাড়া বিওএর বেশ কজন নির্বাহী সদস্য ও কর্মকর্তাও ডেলিগেট হিসেবে যাবেন জাপান ভ্রমণে।
কর্মকর্তাদের কোচ পরিচয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বিওএর সহসভাপতি ও এশিয়াডগামী বাংলাদেশ বহরের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদ একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘আমাদের নির্দেশনা ছিল, কোচ যারা যাবেন, তাদের অবশ্যই কোচিং সার্টিফিকেটের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর দলের অফিসিয়াল বা ম্যানেজার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল ফেডারেশনগুলোকে। এখন কোন খেলায় কারা যাবেন, সেটা তো আমরা ঠিক করি না। ফেডারেশনগুলো যে তালিকায় দেয়, সেটা ধরেই আমরা কাজ করি। এ নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আমার বলার নেই।’
সরকার সম্প্রতি ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি করেছে। এর ফলে এশিয়ানগামী তালিকায় শেষ মুহূর্তে ২৬ জনকে নতুন করে যুক্ত করতে হয়েছে বিওএকে। এর মধ্যে ২৫ কর্মকর্তা ও একজন মাত্র ক্রীড়াবিদ- হকি খেলোয়াড় ও বর্তমান হকি ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য রাসেল মাহমুদ জিমি। ফেডারেশন কর্তাদের আনন্দ ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে প্রকৃত কোচদের ছেড়ে দিতে হয়েছে স্থান।







