এসএ গেমস
অনুশীলনের অর্থ নেই, ভরাডুবির শঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২৭ সালের ৩ থেকে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের তিন শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৪তম সাউথ এশিয়ান গেমস। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ গেমস শুরু হতে ছয় মাসও বাকি নেই। অথচ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এ নিয়ে হেলদোল নেই। এশিয়ান গেমসে চরম ব্যর্থ হওয়ার পরও টনক নড়ছে না তাদের। ফেডারেশনগুলোকে প্রস্তুতি শুরুর কোনো নির্দেশনাই এখনো দেয়নি বিওএ। এ অবস্থায় এসএ গেমসে আরও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ার শঙ্কায় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো।
এসএ গেমস সামনে রেখে কোনো ফেডারেশনই এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি শুরু করেনি। অনেকেই বিওএর নির্দেশনার অপেক্ষায়। কিন্তু খোদ বিওএই এখন অসংগঠিত, নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। তিন দিনে এখন পর্যন্ত সহসভাপতি, উপমহাসচিবসহ আটজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সামনে এই পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাতে একটা সময় ৩৭ সদস্যের বিওএর নির্বাহী কমিটি কোরাম সংকটে পড়বে এবং অলিম্পিক চার্টার্ড অনুযায়ী কোনোরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার হারাবে। বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানার তাই এখন গদি টেকানোর চিন্তাই বেশি করতে হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিওএ ভবনে অনুসারীদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সভাও করেছেন তিনি।
এসএ গেমসের প্রস্তুতি প্রশ্নে অনেক ফেডারেশনই রানার নেতৃত্বাধীন বিওএর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ, গত এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই বিওএর প্রতিশ্রুত বরাদ্দ এখনো হাতে পায়নি। অথচ গেমস চলাকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণ বাবদ বিওএকে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। অতীতে বড় গেমসগুলোর আগে বিওএ সরকারের জন্য অপেক্ষা না করে নিজ তহবিল থেকে েডারেশনগুলোকে অর্থ বরাদ্দ দিত। পরে সরকারের টাকা এলে সেটা সমন্বয় করা হতো। এশিয়ান েগমসের আগে সেটাও করেনি বিওএ।
বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাজল আগামীর সময়ের কাছে বলেছেন, ‘আমাদের ২০ আগস্ট থেকে ক্যাম্প শুরুর নির্দেশনা দিয়েছিল বিওএ। তারা জানিয়েছিল, এ বাবদ আমাদের অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে গেমস আরও ১১ দিন আগে শেষ হয়ে গেলেও ভারোত্তোলন ফেডারেশন কোনো বরাদ্দ পায়নি। এ অবস্থায় এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিয়েও আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি। শেষ তিনটি এসএ গেমসে ভারোত্তোলকরা দেশকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছে। অন্তত ছয় মাসের প্রস্তুতি না নিলে এবার সেই ধারাবাহিকতা রাখা সম্ভব হবে না।’
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনও প্রতিশ্রুত বরাদ্দ পায়নি বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন, ‘আমরা একটা পয়সাও বিওএর কাছ থেকে পাইনি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তারা।’ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজল হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বিওএর আশ্বাসে সাঁতার ফেডারেশনের বিগত কমিটি ৮০ লাখ টাকার ওপরে খরচ করে এসএ গেমসের ক্যাম্প পরিচালনা করেছিল। তবে সেই অর্থ ফেডারেশনকে দেয়নি বিওএ। এবার এশিয়ান গেমসের জন্যও কোনো বরাদ্দ পাইনি। এভাবে চললে এসএ গেমসেও ভালো করা কঠিন হবে।’
কিছু ফেডারেশন অবশ্য গেমস শুরুর আগেই বরাদ্দ পেয়েছে বিওএর কাছ থেকে। যার মধ্যে আছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন। এক মাসের ক্যাম্প খরচের তুলনায় সেটা অপ্রতুল। বাকি অর্থ পেতে বিওএর কাছে অনেকেই খরচের হিসাব জমা দিয়েছে। বিওএর নেতৃত্ব নিয়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তাতে বাকি বরাদ্দ নিয়ে তারা সন্দিহান। উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন বলেছেন, ‘এখন থেকে যদি এসএ গেমসের প্রস্তুতি শুরু করতে পারি, উশু থেকেই আমরা চারটি স্বর্ণপদক এনে দেব, কথা দিচ্ছি। তবে এর জন্য বিওএর নির্দেশনা ও বরাদ্দ প্রয়োজন।’
২০১৯ গেমসে বাংলাদেশ রেকর্ড ১৯টি স্বর্ণসহ ১৪০ পদক পেয়ে পঞ্চম হয়েছিল। গেমসের ছয় মাস আগেই যেভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে ফলাফল বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকছেই।



