নতুন রানির অপেক্ষায় প্যারিস

ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি মিরা আন্দ্রেভা ও মাজা চোয়ালিনস্কা। ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। আজ ফ্রেঞ্চ ওপেনের নারী এককের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন মিরা আন্দ্রেভা ও মাজা চোয়ালিনস্কা। ফ্রেঞ্চ ওপেন তো বটেই, তাদের কেউ এর আগে কোনো গ্র্যান্ড স্লামই জেতেননি। তাই আজ টেনিসের নতুন রানি পাচ্ছে প্যারিস।
অষ্টম বাছাই মিরা আন্দ্রেভার বয়স মাত্র ১৯ বছর। বয়সের তুলণায় কোর্টে অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তিনি। সেমিফাইনালে মার্তা কস্ট্যুকের বিপক্ষে জিতেছেন সরাসরি সেটে। এক দাপুটে জয়সহ প্রতিটি ম্যাচই তিনি বেশ সহজে জিতেছেন। এই জয়ে ২০২৬ সালে ক্লে-কোর্টে আন্দ্রেভার জয়ের রেকর্ড দাঁড়াল ২১-৩।
আন্দ্রেভা ২০২৪ সালে প্যারিসেই অলিম্পিক গেমসের দ্বৈতে রৌপ্য জিতেছিলেন। আজ জিতলে ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ গ্র্যান্ডস্লাম চ্যাম্পিয়নদের একজন হিসেবে নাম লেখাবেন তিনি।
১৯ বছর বয়সী আন্দ্রেভা ফাইনালের আগে বলেছেন , ‘আমি লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি—প্রতিটি ম্যাচ খেলার পর আমি একটু একটু করে আরও পরিপক্ক হয়ে উঠছি।’
২০০১ সালে ১৭ বছর বয়সী কিম ক্লাইস্টার্স এবং ২০২২ সালে ১৮ বছর বয়সী কোকো গফের পর চলতি শতাব্দীতে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে ওঠা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হলেন আন্দ্রেভা। ১৯৯২ সালে মনিকা সেলেসের পর সবচেয়ে কম বয়সী ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কোর্টে নামবেন।
সাইবেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং ফ্রান্সে প্রশিক্ষণ নেওয়া আন্দ্রেভা ২০২৩ সালের মাদ্রিদ ওপেন থেকেই বিশ্বমঞ্চে নিজের জানান দেন। সে সময় তার প্রতিভা ও নির্ভীক খেলা দেখে অ্যান্ডি মারের মতো তারকাও প্রশংসা করেছিলেন। ২০২৪ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন কনচিতা মার্টিনেজকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর আন্দ্রেভার উন্নতির গ্রাফ আরও দ্রুত ওপরের দিকে ছুটতে থাকে।
তার প্রতিপক্ষ মাজা চোয়ালিনস্কা ফাইনালে পৌঁছেছেন রূপকথা গড়ে। ২৪ বছর বয়সী এই পোলিশ খেলোয়াড় টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন ১১৪ নাম্বার র্যাংকিংয়ে থেকে। মূল পর্বে জায়গা করে নিতেই তাকে প্রথমে তিন রাউন্ডের কঠিন বাছাইপর্ব (কোয়ালিফাইং) পার হতে হয়েছিল। সেই সেমিফাইনালে ডায়ানা শ্নাইডারকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ইতিহাসে প্রথম নারী কোয়ালিফায়ার হিসেবে ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়েন।
এর আগে টেনিস ইতিহাসে মাত্র একবারই কোনো কোয়ালিফায়ার গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন (২০২১ সালে ইউএস ওপেনে এমা রাডুকানু)।
অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেং কিনওয়েনের মতো বড় তারকাদের বিদায় করার পর তার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে যার জেতার সম্ভাবনা ছিল ৫০০-১, সেই চোয়ালিনস্কা বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে কোনো স্বপ্নের দুনিয়ায় আছি। চারপাশে কী ঘটছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ফাইনালে পৌঁছানোটা অবিশ্বাস্য।’




