ইউএস ওপেনের নতুন রানি রিবাকিনা

সংগৃহীত ছবি
ফাইনালের আগেই নিশ্চিত করেছিলেন র্যাংকিংয়ের মুকুট। সাবালেঙ্কার ৯৯ সপ্তাহের রাজত্ব কেড়েছিলেন এলেনা রিবাকিনা। সাবালেঙ্কার জ্বালা বাড়িয়ে এবার রিবাকিনা কেড়ে নিলেন তার ইউএস ওপেনের শিরোপাও।
শনিবার নারীদের এককের ফাইনালে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে জিতে প্রথমবার ইউএস ওপেন জিতলেন রাশিয়ায় জন্ম নেওয়ায় কাজাখস্তানের রিবাকিনা। তাতে জিতেছেন রেকর্ড ৪১ লাখ পাউন্ডের চেকও। মেয়েদের টেনিস ইতিহাসে এক টুর্নামেন্টে এত বড় অংকের প্রাইজমানি জেতেননি আর কেউ।
গত দুই আসরে টানা শিরোপা জেতা সাবালেঙ্কা থামলেন অবশেষে। ওপেন যুগে তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে তাকে টানা তিনটি ইউএস ওপেন জিততে দেননি রিবাকিনা।
গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন ব্র্যাড পিট, জেসিকা চ্যাস্টেইন এবং অ্যামি অ্যাডামসের মতো হলিউড তারকারা। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের ঠিক আট মাস পর এই তারকাদের সামনে রিবাকিনা এ বছর সাবালেঙ্কাকে হারালেন দ্বিতীয় গ্র্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে।
২০০০ সালের পর এটি ছিল মাত্র তৃতীয় ইউএস ওপেন নারী একক ফাইনাল, যেখানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর ও ২ নম্বর খেলোয়াড় মুখোমুখি হয়েছিলেন একে অন্যের। তাতে বাজিমাত রিবাকিনার।
দুই খেলোয়াড়ের ব্যক্তিত্বও দুই রকম। বাম হাতে বাঘের ট্যাটু আঁকা সাবালেঙ্কা বেশ আবেগী। চিৎকার করেন কোর্টে। আর রিবাকিনা বেশ শান্ত, ধীরস্থির ও সংযত । জয়ের পর তার মুখে হাসিও দেখা যায় কম, পিছিয়ে গেলে রেগে যান না কখনও।
টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও সাবালেঙ্কা প্রথম সেটে মানসিকভাবে ছিলেন অস্থির। পঞ্চম গেমেই ডাবল-ফল্ট করে রিবাকিনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'ব্রেক' উপহার দেন তিনি।
২৮ বছর বয়সী এই বেলারুশিয়ান রাগে একটি বল ছুঁড়ে মারেন আকাশে আর আম্পায়ার তাকে জানান সতর্কবার্তা।
প্রথম সেটে তার র্যাকেট থেকে এসেছে ১৫টি আনফোর্সড এরর, যেখানে রিবাকিনার ছিল মাত্র পাঁচটি। আর ৪৪ মিনিটের মধ্যে সার্কিটের সেরা সার্ভার রিবাকিনা ম্যাচে এগিয়ে যান।
গত ১০ আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো এই ফাইনাল গড়ায় তৃতীয় সেটে। সাবালেঙ্কার হয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন ইউটিউবার জেক পল, অলিম্পিক স্পিড স্কেটিং চ্যাম্পিয়ন জুটা লির্ডাম, মডেল প্যারিস হিলটন এবং ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো। তবে রিবাকিনা তৃতীয় সেটে দুটি 'ব্রেক' পান এবং সোয়া দুই ঘণ্টারও বেশি লড়াই শেষে নিজের সার্ভে ম্যাচটি নিশ্চিত করেন। এই কোর্টে টানা ২০ ম্যাচ জেতার পর অবশেষে থামেন সাবালেঙ্কা আর হতাশায় মেঝেতে র্যাকেট আছড়ে ভাঙেন।
২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন মারিয়া শারাপোভার হাত থেকে ট্রফি নিয়ে রিবাকিনা বললেন,‘এই টুর্নামেন্টে আসার সময় আমি এমন কিছুর প্রত্যাশা করিনি। আমি ইনজুরিতে ছিলাম কিন্তু সবকিছু আমার পক্ষেই মিলে গেল। সাবালেঙ্কা একজন চ্যাম্পিয়ন। তোমার বিপক্ষে খেলা সত্যিই অসম্ভব কঠিন। তুমি আমাকে চরম সীমা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছিলে।’
হতাশায় ভেঙে পড়া সাবালেঙ্কা আবেগে এতটাই আপপ্লুত ছিলেন যে কোর্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি অল্প কথাতেই সারেন। তিনি বলেন,‘এই মুহূর্তে কথা বলার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। অবশ্যই আমি ভীষণ হতাশ, তবে আমি রিবাকিনাকে একটি অবিশ্বাস্য বছরের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই। তুমি এটার যোগ্য, এটি উপভোগ করো।’



