৪০ বছরের আক্ষেপ বক্সিংই দূর করবে

১৯৮৬ সালের এশিয়ান গেমসের বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। এশিয়াডে সেটাই ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদক। রাহেনুর ইসলামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর পর আরেকটি এশিয়াডে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের স্বপ্নের কথা বলেছেন তিনি
এশিয়ান গেমস ১৯৮৬ সালে আপনার পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জেতেননি বাংলাদেশের আর কেউ, এবার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন।
এবার দেখলাম দলের বহর ২৬০ জনের। অথচ ১৯৮৬ সালে ফুটবল, হকি দল আর কর্মকর্তারা মিলিয়ে আমরা গিয়েছিলাম ৭০ জন। প্রস্তুতির ঠিক েনই কিন্তু কর্তাদের জাপান যাওয়ার তদবিরবাজি থেমে নেই। এশিয়ান গেমস হয়ে গেছে পিকনিক পার্টি, পদক জিতবেন কীভাবে?
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কাবাডি আর ক্রিকেটে অর্থাৎ দলগত পদক জিতেছে। কিন্তু গত ৪০ বছরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে কেন সাফল্য নেই?
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো কিন্তু পদক পাচ্ছে নিয়মিত। আমাদের অ্যাথলেটরা শারীরিক সক্ষমতায় খুব বেশি পিছিয়ে নেই। তারপরও পদক আসছে না দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অনুশীলন আর খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায়। আমাদের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য আছে তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। গেমসের দুই-তিন মাস আগে ক্যাম্প শুরু করে কিছু পাবেন না।
বক্সিংয়ে আপনার ব্রোঞ্জ জয়ের পর গত চার দশকে আরও ভালো করার কথা, কিন্তু হয়েছে উল্টোটা।
বক্সিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী খেলোয়াড় এনে কয়েকটা টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়েছে। এটাই বলে দেশের বক্সাররা কতটা পিছিয়ে গেছে। এর অনেক কারণও আছে। পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত রিং ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই। আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন নেই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগও কম। তাহলে আপনি বিশ্বমঞ্চে ভালো করবেন কীভাবে?
গত এশিয়ান গেমসে মোহাম্মদ সেলিম হোসেন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আশা দেখিয়েছিলেন। এবারও তিনি অন্যতম ভরসা বাংলাদেশের।
আমার বিশ্বাস এশিয়াডে গত ৪০ বছরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের খরা কাটবে বক্সিংয়েই। সেলিমও কাটাতে পারে সেটা। ওর বাড়ি আমাদের রাজশাহীর শিরোইলে। গত এশিয়ান গেমসের পর শান্তিরক্ষী মিশনে কঙ্গোতে এক বছরের জন্য চলে যায় ও। এই দীর্ঘ সময় কোর্টের বাইরে থাকা খেলায় প্রভাব ফেলা স্বাভাবিক। তবে কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে ফিরে পেয়েছে সেলিম।
বক্সিং শিরোইলের আলাদা ঐতিহ্য আছে। এটা নিশ্চয়ই আপনার অনুপ্রেরণাতেই হয়েছে।
আমি এশিয়ান গেমসে পদক জেতার পরই কয়েকটা ক্লাব গড়ে ওঠে শিরোইলে। এখন আছে চারটি— সিটি ক্লাব, মডার্ন ক্লাব, নাদিম ক্লাব আর সিটি করপোরেশনের ক্লাব। বাংলাদেশের বক্সিংয়ের ৯০ শতাংশই এই শিরোইলের। এটা গর্ব করার মতো ব্যাপার।



