কমছে ম্যাচ কমছে আয়

জ্বালানি সংকটে বন্ধ কলকারখানা, বেকার হয়ে পড়েছেন বহু শ্রমিক। অবশ্য বাংলাদেশে শ্রমজীবী এই মানুষ সবসময়ই দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। কিন্তু ক্রিকেটাররা তো এই বলয়ের বাইরে। মাঠে তাদের খুঁজে ফেরে অজস্র ক্যামেরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগুনতি ভক্ত। কিন্তু আলোর নিচে অন্ধকারের মতো দেশের ক্রিকেটেও চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ, যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে সংকোচ করছেন অনেক ক্রিকেটারই।
২০২৬ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয় দেরিতে। জাতীয় নির্বাচন, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে আবাহনী, মোহামেডানসহ শীর্ষ ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণে অনীহাসহ নানান কারণে যথাসময়ে শুরু করা যায়নি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি পেশাদার ক্রিকেটারের অংশগ্রহণের আসর। দেরিতে শুরু হওয়ায় বাদ দেওয়া হয় সুপার লিগ, ফলে ম্যাচসংখ্যা কমে যায় লিগে। আনুপাতিক হারে কমে যায় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও। এর সঙ্গে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে বিপিএল না হওয়ার ঘোষণা।
আরও অনেক ক্রিকেটারের মতো রবিবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে হতাশ মুগ্ধ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আর্থিক ক্ষতি তো হয়েছেই। যদিও আমি ইনজুরির কারণে খেলছি না, তাই বিশেষ করে আমার জন্য আরও কঠিন। কারণ, অদম্য কাপের পর থেকে আমি মাঠের বাইরে। আর্থিকভাবে অনেকটা ক্ষতিই হয়েছে।’ অবশ্য তামিম বিসিবির নেতৃত্বে এসে ক্রিকেটারদের বেতন বাড়িয়েছেন, হাইপারফরম্যান্স ও ‘এ’ দলের জন্য ম্যাচ ফি চালু করেছেন। মুগ্ধ মনে করেন, ‘যারা খেলছে তাদের জন্য ভালো। ‘এ’ দলে যারা খেলেছে তাদের জন্য ভালো যে তারা ক্ষতিটা পুষিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমি তো খেলতে পারছি না। আমার জন্য বেশি কঠিন।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ সুমন খান। কখনো জাতীয় দলে না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময়ই এই পেসারের একটা কদর আছে। সেই সুমনও বলছেন, ‘আর্থিক ক্ষতি তো অবশ্যই। পেমেন্ট ডাউন ছিল গত দুই বছর। এতে আমাদের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এখানে দুই ভাবে দেখা যায়, ২০২৪-এর পর থেকে প্রিমিয়ার লিগের পেমেন্ট কমে গেছে। কারণ, আমরা যারা একমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেট খেলি তাদের মোটা অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে। যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পেতাম, তা পাইনি। এটি লুকানোর কিছু নেই। সবাই জানে।’
সৈকত আলী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ মৌসুমে খেলেছেন ঢাকা লেপার্ডসের হয়ে আর বিপিএলে খেলেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসে। তার মুখেও ক্রিকেটারদের আর্থিক সমস্যার কথা, ‘দুই বছর ধরে তো ধাক্কার (আর্থিক) ওপরই আছি। প্রিমিয়ার লিগ তো গতবার হওয়ারই কথা ছিল না। আমরা সবাই হতাশ ছিলাম এটা নিয়ে। অবশেষে যেভাবেই হোক হয়েছে।’
প্রিমিয়ার লিগেও পারিশ্রমিক কমেছে। বছরের আর যে একটা টুর্নামেন্ট থেকে ক্রিকেটাররা ভালো অঙ্কের টাকা পেতেন, সেই বিপিএলও হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে খুব একটা ভালো নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা ঘরোয়া লিগ খেলা ক্রিকেটাররা, যারা ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য
তামিম চাইছেন, বিপিএলকে সঠিক দিশায় ফিরিয়ে এনে তারপর মাঠে নামাতে। তার আগে ছোট পরিসরে ঘরোয়া পর্যায়ে বিকল্প আসর আয়োজনের প্রস্তাব ক্রিকেটারদের দেওয়া হয়েছে বিসিবির তরফ থেকে। মুগ্ধর কণ্ঠেও তামিমকে নিয়ে মুগ্ধতা, ‘আশা করি গত মৌসুমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রিকেটাররা সামনের মৌসুমে তা কাটিয়ে উঠবে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর তামিম ২১ আগস্ট বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে অনুরোধ করেছিলেন বিপিএলটা যেন না থামে। তাতে করে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সেই তামিম সভাপতি হওয়ার পরই প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ কমল আর বন্ধ হলো বিপিএল।







