হাঙ্গেরি থেকে বেনিন, মেসির সফরনামা
- ২০৭ ম্যাচে মেসি খেলেছেন ৬০টি প্রতিপক্ষের সঙ্গে
- বেশি ম্যাচ খেলেছেন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে, ২০টি
- লাতিনের বাইরে সবচেয়ে বেশি ৬ ম্যাচ মেক্সিকোর বিপক্ষে
- স্পেন, জার্মানি ক্রোয়েশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪টি করে

২১ বছর আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মেসির দুঃস্বপ্নের শুরু
শুরুটা হয়েছিল হাঙ্গেরির বিপক্ষে, ফেরেঙ্ক পুসকাস স্টেডিয়ামে। অভিষেক ম্যাচে মাঠে স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৪৭ সেকেন্ড। লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি, জার্সি টেনে ধরার কারণে ভিলমোশ ভানচাক নামের এক ফুলব্যাকের মুখে কনুই চালিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে!
অভিষেক যার এতটা সংক্ষিপ্ত, ফুটবল জগতে তার উপস্থিতিটাই খুব সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। আর্জেন্টিনার জার্সিতেই তার জীবনের ২১ বছর কেটে গেল। দেখলেন জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই। লম্বা চুলের নিচে দুষ্টুমি ভরা চোখের এক বালক হিসেবে শুরু করা মেসি এখন উল্কিময় পেশিবহুল শরীরের শশ্রূমণ্ডিত এক বলিষ্ঠ পুরুষ, তিন পুত্রের জনক। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ফুটবলার অধ্যায়ের। আকাশি নীল জার্সিতে মেসিকে শেষবারের মতো দেখতে ভক্তদের ঢল নামবে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে, ৮৫ হাজার আসনের টিকিট বিকিয়ে গেছে ৯০ মিনিটে! আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সমান ধারণক্ষমতা হলেও সব টিকিট বিক্রি হয়ে যেত।
প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে মেসি দ্বিতীয়, শীর্ষে আছেন ২৩৪ ম্যাচ খেলা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ২০৭ ম্যাচে মেসি মাঠে নেমেছেন ৬০টি প্রতিপক্ষের সঙ্গে। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে, ২০টি। এরপরই বলিভিয়া, ১৯টি। উরুগুয়ে ঠিক তার পরপরই ১৮টি। চিলির বিপক্ষে খেলেছেন ১৭ ম্যাচ, ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৭। কোপা আমেরিকা এবং লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচগুলোর কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই লাতিন প্রতিপক্ষদের বিপক্ষেই মেসি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন, লাতিন আমেরিকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ছয় ম্যাচ খেলেছেন মেক্সিকোর বিপক্ষে।
বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছবি : রয়টার্স
ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে মেসি সর্বোচ্চ চারটি করে ম্যাচ খেলেছেন স্পেন, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির খেলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ ম্যাচ। এশিয়া মহাদেশের অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরবের বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি তিনটি করে ম্যাচ খেলেছেন মেসি।
দক্ষিণ আমেরিকার ৯ দলের বিপক্ষে মেসি খেলেছেন, গোলও করেছেন প্রতিটি দলের বিপক্ষে। ইউরোপে মেসি খেলেছেন ২২টি দলের বিপক্ষে, গোল করেছেন ১২ দলের বিপক্ষে। সবচেয়ে বেশি, পাঁচ গোল করেছেন এস্তোনিয়ার বিপক্ষে। ইউরোপের বড় দলগুলোর মধ্যে ইতালি ও সুইডেনের বিপক্ষে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি।
কনকাকাফ অঞ্চলের ১২টি দলের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি, গোল করেছেন ১১ দলের বিপক্ষেই। সবচেয়ে বেশি পাঁচ গোল মেক্সিকোর বিপক্ষে, এরপর চার গোল আছে পানামার বিপক্ষে। একটাই দল আছে এ অঞ্চলে, যাদের বিপক্ষে মেসি খেলেও গোলের দেখা পাননি, দলটি হচ্ছে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
এএফসি বাছাই অঞ্চলের
৯টি দলের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি, গোল করেছেন পাঁচ দলের বিপক্ষে। দুই গোল করে আছে অস্ট্রেলিয়া
ও হংকংয়ের বিপক্ষে, এক গোল করে আছে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।
গোলের দেখা পাননি জাপান, কাতার, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
এখন পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশের আট দলের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি, বেনিন হতে যাচ্ছে নবম প্রতিপক্ষ। আফ্রিকার নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল আছে মেসির, আর আলজেরিয়ার বিপক্ষে আছে দুই গোল। এর বাইরে আফ্রিকার আর কোনো দলের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি মেসি। খেলেছেন তবে গোলের দেখা পাননি অ্যাঙ্গোলা, মিসর, আইভরি কোস্ট, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।




