সেমিফাইনালের পর বাটলার
আমরা মাথা খাটিয়ে সাফল্য এনেছি

সংগৃহীত ছবি
অনেক বাধা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। হ্যাটট্রিক সাফ শিরোপা জয়ের পথে বুধবার তারা নেপালকে সেমিফাইনালে হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। প্রথমে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা, সাগরিকারা। এই ঘুরে দাড়ানোকে অলৌকিক মানছেন না গর্বিত কোচ পিটার বাটলার। তার দাবি, মাথা খাটিয়েই সাফল্য ছুঁয়েছে তার শীষ্যরা।
গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল মঞ্চটা কণ্টকাকীর্ণ। মাঠের ভেতর-বাহিরের অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে দল এবং বাটলার নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফদের। বাটলার মনে করেন, এই জয় অনেক সমালোচনার জবাব, ‘আমাদের অনেক সমস্যা ছিল। দলের ভেতরে-বাইরে থেকে, অনুশীলন করতে না পারা, প্রিয়জনকে হারানো; সেমিফাইনালের আগে আমাদের অনেক কিছুর সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে। তারপরও মেয়েরা অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমরা কঠিন পাহাড় ডিঙাতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য দারুণ শিক্ষা।’
সমালোচকদের ইঙ্গিত করে এরপর কোচ বলেন, ‘তাদের জন্যও শিক্ষা যারা আমাদের কেবল মুখেই শুভকামনা জানায়, বলে তোমরা ভালো খেলো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা সত্যিই কি আমাদের জিততে দেখতে চায়?’
২৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর বাটলার বেশ কিছু টেকটিক্যাল পরিবর্তন করেন। বিশেষ করে আক্রমণভাগে নিভে থাকা সুরভি আখন্দ ও উমহেলা মারমাকে তুলে নিয়ে মাঠে পাঠান দুই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে। শেষ দিকে তিনি আনিকা রানিয়ার জায়গায় সাগরিকাকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ান। সঠিক সময়ে কোচের এই পরিবর্তনগুলো সুফল বয়ে এনেছে। বাটলার শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়াকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দাবি করেছেন, ‘আমি এটাকে ম্যাজিক বলবো না, আমরা মাথা খাটিয়ে সাফল্য এনেছি। আমাদের বদলগুলো বেশ ভালো হয়েছে। মাঠে পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজে লেগেছে। মেয়েরাও নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলেছে যেন সব কিছুকে ভুল প্রমাণ করা যায়।‘
মাঠের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রভাব দলে পড়লেও, বাটলার সেটাকে বড় হতে দেননি। আগের দিন অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছিল শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে। তবে যতটুকু সময় পেয়েছেন, শিষ্যদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছেন।
যখন সবকিছু ঠিক না থাকে, তখন পরিকল্পনায়ও বদল আনতে হয়। সেটা করেই আরেকবার বাংলাদেশকে বাটলার দেখাতে শুরু করেছেন শিরোপার স্বপ্ন।




