৯৯ মিনিটে পেনাল্টির জেরে রেফারি ও তার পরিবার পুলিশি পাহারায়

স্কটিশ ফুটবল রেফারি জন বিটন পড়েছেন মহাবিপাকে।
ম্যাচের ৯৯তম মিনিটে পেনাল্টি দিয়ে বিপদে পড়েছেন স্কটিশ ফুটবল রেফারি জন বিটন এবং তার পরিবার। মাঠের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা এবার রূপ নিল ব্যক্তিগত সংকটে। কে বা কারা বিটন ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস করে দিয়েছেন। এ কারণে বিটন ও তার পরিবারকে পুলিশি পাহারায় কার্যত অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে হচ্ছে!
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ) এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে ফুটবলার, সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসএফএ বিষয়টিকে ফুটবলের জন্য কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেছে। গত বুধবার স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপে মাদারওয়েলের বিপক্ষে সেল্টিকের ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন জন বিটন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের ৯৯ মিনিটে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় সেল্টিকের পক্ষে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি, যা থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করে সেল্টিক। লিগের শিরোপা লড়াই যখন অন্তিম মুহূর্তে, তখন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।
শনিবারই সেল্টিক পার্কে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই রেফারির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হলো চরম শঙ্কা। ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর জন বিটন ও তার পরিবারকে নিজেদের বাড়িতেই পুলিশের নজরদারিতে থাকতে হচ্ছে। রেফারিদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতে আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে স্কটিশ ফুটবল। স্কটিশ ফুটবলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই প্রচেষ্টাকে আমরা কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাই। রেফারিরা ভুলের ঊর্ধ্বে নন। স্ট্রাইকাররা যেমন গোল মিস করেন বা গোলরক্ষকরা সহজ গোল হজম করেন, রেফারিদের সিদ্ধান্তেও তেমন ভুল বা ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া এমন হিংসাত্মক হতে পারে না। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাঠের হারকে রেফারির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তারই অনিবার্য পরিণতি এটি। ম্যাচ পরবর্তী সময়ে ক্লাবগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিমূলক পোস্ট এবং মিডিয়ার হিস্টিরিয়াগ্রস্ত প্রচারণার কারণে আজ রেফারিদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া কিংবা বাড়িতে দরজা বন্ধ করে থাকাটা নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এটা আর মেনে নেব না।’
এদিকে স্কটল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘একজন ফুটবল অফিশিয়ালের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’






