নারায়ণগঞ্জে এক টুকরো নেদারল্যান্ডস

১৯৭৪ সালের পর ১৯৭৮ বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। টোটাল ফুটবলের কমলা ঝড় তুলে ফুটবলের বাঁকবদল করেছিল তারা। নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা লস্করের তখন জন্মই হয়নি। তারপরও তিনি ভক্ত রেনাশ মিশেলের ফুটবল দর্শন আর ইয়োহান ক্রুইফদের জাদুকরী খেলার।
ডাচভক্ত বদরুদ্দোজা শুধু বিশ্বকাপ নয়, বছর জুড়েই নিজের ঘরকে বানিয়ে রাখেন এক টুকরো নেদারল্যান্ডস করে! নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের জার্সি, টি-শার্ট ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সাজিয়েছেন নিজের ঘরকে। তিনি পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা। কাজ করেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে। শত ব্যস্ততায় এই ফুটবলপ্রেমী কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বুকে ধারণ করে রেখেছেন নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের প্রতি এক অন্যরকম ভালোবাসা।
সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম এনায়েতগরের লক্ষ্মীনারায়ণ মিলেন (এনএলসি) ‘মায়াকানন’ এই ফুটবলপ্রেমীর বাড়ি। তার ঘরের দেয়ালে দেয়ালে কমলা রঙের ছোঁয়া। চোখে পড়বে নেদারল্যান্ডসের জার্সি, পতাকা, স্মারক আর ফুটবল ইতিহাসের নানা নিদর্শন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, যেন বাংলাদেশের কোনো ঘর নয়, নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলেরই ছোট্ট এক সংগ্রহশালা। প্রিয় দলকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করেছেন নানা স্মারক। শুধু সংগ্রহই নয়, নিজের বাসার ভেতরেই কার্পেটে তৈরি করেছেন প্রায় ৮ ফুট বাই ১২ ফুটের আকর্ষণীয় একটি মাঠ।
বদরুদ্দোজা লস্কর আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে নেদারল্যান্ডস দলের ৮০ থেকে ৮৫টি জার্সি ও টি-শার্ট সংগ্রহ করেছি। সবচেয়ে পুরাতন অর্থাৎ ৫২ বছর আগের ১৯৭৪ সালের জার্সিও সংরক্ষণে আছে। এক বন্ধুর মাধ্যমে ফ্রান্স থেকে আনিয়েছিলাম এটি। এ ছাড়া রয়েছে ক্যাপ, প্র্যাকটিস কিট, পানির পট, মগ, প্লেট, ফুটবল, চাবির রিং, পরনের লুঙ্গিসহ অসংখ্য স্মারক। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ১৬ বছরে আমি এগুলো সংগ্রহ করেছি।’
১৯৮৮ সালে ডাচদের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছেন তিনি। তখন ভেসেছেন আনন্দে। আবার ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারতে দেখে ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়। এবারের বিশ্বকাপে সব হতাশা কাটিয়ে প্রিয় দলের শিরোপার অপেক্ষায় তিনি।




