বিশ্বকাপ
অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ের হাসি

সংগৃহীত ছবি
আধিপত্য বিস্তার করেও প্রথমার্ধে গোল পেল না দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রকে বাগে পেয়েও গোল করতে না পারায় প্রথমার্ধ থাকলো গোলশূন্য। বিরতি থেকে ফিরে চেক প্রজাতন্ত্র ধারার বিপরীতে গোল করে এগিয়ে যায় ৫৯ মিনিটে। তবে শেষদিকে দারুণভাবে ফিরে এসে ঠিকই কাঙ্ক্ষিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কোরিয়া। বিশ্বকাপের শুরুর দিনে ২-১ গোলের জয়ে শুরু করল এশিয়ান পরাশক্তিরা।
কোরিয়ার জয়ের নায়ক সুপার সাব ওহ হিয়ন-গিউ। ৫৯ মিনিটে হোয়াং ইন-বেয়মের অসাধারণ সমতাসূচক গোলের পর ৮০ মিনিটে গোল করে জয়ের নায়ক বনে যান হিয়ন। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ২৫তম কোরিয়া শুরুটা করেছিল দেখে শুনে। প্রথম দশ মিনিটে প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্রকে পরখ করতে চেয়েছে তারা। তাই এ সময়টায় ১৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা চেকরা চেষ্টা করেছে সুযোগ তৈরির। ধাতস্ত হয়ে ম্যাচের দশম মিনিটের পর থেকে এ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কোরিয়ানরা।
পরিকল্পিত আক্রমণে তারা চেয়েছে গোলের দরজা খুলতে। আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র সন হিউং-মিনকে ঘিরেই তারা চেষ্টা করেছে এগিয়ে যাওয়ার। যদিও কোরিয়া অধিনায়কের বেশ কিছু ভালো চেষ্টা অল্পের জন্য ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধেই তিন থেকে চারবার চেকিয়া রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা সন।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে লি কাং-ইন অসাধারণ বল বাড়ান লি জে-সুংয়ের কাছে। সুং বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মার্কারকে কাটিয়ে সনের কাছে বাড়ান। কিন্তু অধিনায়কের কাছ থেকে নেওয়া শটটি ডিফেন্ডার রবিন হানাচ ব্লক করে কর্নারের বিনিময়ে চেকিয়াকে রক্ষা করেন।
৩৭তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগকে গোলে বদলে দিতে পারেননি সন। কিম মিন-জে চেকিয়া মিডফিল্ডার ইয়ারোস্লাভ জেলেনির কাছ থেকে একটি বল কেড়ে নিয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বল বাড়িয়ে দেন সনকে। সন বল নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকেই জোড়ালো শট নেন, তবে তা কাছের পোস্ট ঘেষে বাইরে গেলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় দক্ষিণ কোরিয়াকে।
বিরতি থেকে ফিরেও কোরিয়ার ছিল আধিপত্য। তবে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে শারীরিক উচ্চতার সুযোগ নিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। ভ্লাদিমির চাউফালের লম্বা থ্রো-ইনে অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচির নিখুঁত হেড পরাস্ত করে কোরিয়া কিপার কিম সেউং-গিউকে। তবে ৬৭ মিনিটে অসাধারণ গোলে কোরিয়াকে ম্যাচে ফেরান হোয়াং ইন-বেয়ম। পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে আসে এই গোল। সতীর্থের থ্রু ধরে দুই মার্কার ও চেকিয়া কিপারকে বোকা বানিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন বেয়ম।
৭৭ মিনিটে সেটপিস থেকে বল জালে জড়িয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। চাউফালের ফ্রি-কিকে সাদিলেচের হেড জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটা গোল ধরা হয়নি। চেক প্রজাতন্ত্রের গোল বাতিলের তিন মিনিট পর প্রত্যাশিত গোলটি পেয়ে যায় কোরিয়া। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে হাওয়াং ইন-বিওম বক্সে লো-ক্রস দেন। ১১ মিনিট আগে বদলি নামা ওহ হিয়ন-গিউ প্রথম সুযোগেই দুর্দান্ত শটে চেক প্রজাতন্ত্র কিপার কোভারকে পরাস্ত করে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে নেন।
অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়ে কোরিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন কিপার কিম সেউং-গিউ! গোছালো আক্রমণ থেকে বল পেয়ে হ্লোজেক বক্সে ঢুকে পাস দেন চিতিলকে। এই ফরোয়ার্ড ব্যাক-পাস করেন পেনাল্টি স্পটের দিকে। আনমার্কড সাদিলেকের প্লেসিং গোললাইনের একপাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্লক করে কোরিয়াকে বাঁচান।
দক্ষিণ কোরিয়া একাদশ (৩-৪-৩): কিম সেউং-গিউ, লি গি-হিউক, কিম মিন-জে, লি হান-বিওম, লি টে-সিওক, পাইক সেউং-হো, হাং ইন-বিওম, সিওল ইয়ং-উ, লি জে-সুং, সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন।
চেকিয়া একাদশ (৩-৪-৩): মাতেই কোভার, লাদিস্লাভ ক্রেইচি, রবিন হানাচ, স্তেপান চালৌপেক, ইয়ারোস্লাভ জেলেনি, আলেকজান্দর সোয়কা, তোমাস সুচেক, ভ্লাদিমির চাউফাল, লুকাশ প্রোভোদ, পাত্রিক শিক, পাভেল সুলৎস।






