কেপ ভার্দে নায়কের কান্না
টাকার অভাবে মাকে নিয়ে বিশ্বকাপে আসতে পারিনি

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে পরাশক্তি স্পেনের ২৭টি আক্রমণ একাই নসাৎ করে দিয়ে রাতারাতি ফুটবলবিশ্বের নতুন নায়ক বনে গেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচ শেষ হতেই ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার এক লাফে ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে! এমন এক রূপকথার ম্যাচ শেষে পুরো দল যখন উল্লাসে মাতোয়ারা, তখন মাঠের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভুত এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে।
প্রথমে সবাই এটিকে আনন্দের অশ্রু ভাবলেও ভোজিনহা নিজেই জানান তার পারিবারিক বেদনার গল্প। ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা শেষ হওয়ার পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদীর কাছে বড় হয়েছি। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় এই মুহূর্তে তারা আমার পাশে নেই। কয়েক বছর আগেই তারা মারা গেছেন। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার মাও আজ গ্যালারিতে থাকতে পারেননি কেবল ভিসা জটিলতা আর টাকার অভাবে। সময়মতো সব গুছিয়ে উঠতে পারিনি।’
বিশ্বকাপের মতো ক্রীড়াবিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চে একজন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের মা কেবল টাকা ও ভিসা সমস্যার কারণে গ্যালারিতে থাকতে পারবেন না- বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সাবেক ফুটবলার ও সমর্থকেরা। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রেইগ ফস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন খেলোয়াড় এই দিনটির জন্য সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে। আর তার প্রিয় মানুষেরাই গ্যালারিতে থাকার সুযোগ পায় না! যারা তাদের বড় করেছেন, এই পর্যন্ত আসার পেছনে অবদান রেখেছেন, তাদের এভাবে বঞ্চিত করা মোটেও ফুটবল হতে পারে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়েও একজন ফুটবলারকে এই কষ্ট বুকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে, ফুটবল সত্যিই কখনো কখনো বড্ড নিষ্ঠুর!’
ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা ডিয়াস। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে তার যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ২৫ বছর বয়সের আগে কোনো পেশাদার ক্লাবেই সুযোগ পাননি। নিজের অতীত নিয়ে ভোজিনহা বলেন, ‘আমি আমার তরুণ সংস্করণকে বলব নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে। আমি কখনো ভাবিনি এই বয়সে এসে এমন রূপকথার অংশ হব। এখন মনে হচ্ছে, আমার সব কষ্ট সার্থক।’
পর্তুগিজ শব্দ ‘ভোজিনহা’- এর অর্থ হলো ‘ছোট দিদিমা বা দাদী’। শৈশবে যখনই ভোজিনহা কোনো ম্যাচ হেরে যেতেন, বড় ছেলেরা তাকে খেপাত এই বলে যে—‘ও এখন বাড়ি গিয়ে তার দাদীর কাছে কাঁদবে।’ সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় ভোজিনহা। পেশাদার ক্যারিয়ারে নিজের সেই প্রিয় দাদা-দাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই নামটি জার্সির পেছনে বেছে নেন তিনি।
মায়ের অনুপস্থিতি আর প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা বুকে চেপে ভোজিনহা আরও বললেন, ‘আমাদের দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আমাদের ঐক্য। আমরা সবাই একটা পরিবার, আর এই পারিবারিক বন্ধনই আমাদের মাঠে লড়ার শক্তি জোগায়।’






