এবার হতাশায় শেষ মেসির

লিওনেল মেসি
চলল না জাদু পা, তৈরি হলো না কোনো ম্যাজিক মোমেন্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা গেল এক বিবর্ণ আর্জেন্টিনাকে, গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন লিওনেল মেসিও। অথচ ম্যাচের শুরুর দিকেই, ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জটলা থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। সামনে ছিল না রক্ষণের কেউই। একা বল নিয়ে ছুটেছিলেন, অনেক এগিয়ে থাকা গোলরক্ষক উনাই সিমন তার কাছ থেকে বলটা কেড়ে নেন প্রথম প্রচেষ্টাতেই। বলা যায় নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন সেখানটায়। ম্যাচের বাকি সময়টায় মেসি নিজেও আর কোনো সুযোগই পাননি, করতেও পারেননি কোনো সতীর্থের জন্যও।
সাড়ে ৩ বছর আগে, লুসাইলে মেসি হাত মিলিয়েছিলেন স্বর্গের সঙ্গে, পা রেখেছিলেন সর্বোচ্চ চূড়ায়। রোসারিও’র সেই ছোট্ট ছেলেটার রূপকথা পেয়েছিল পূর্ণতা। এবারের বিশ্বকাপটা মেসি খেলবেন কি না, সেটাই ছিল একসময়ের বড় প্রশ্ন। মেসি খেললেন, তার জাদুর পায়ে ভর করে আর্জেন্টিনা ধুঁকতে ধুঁকতে ফাইনাল পর্যন্ত এলো। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৯ গোলের ভেতর ৮ গোল মেসির, ৪ গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট। ফাইনালের আগ পর্যন্ত মেসির ৩৪টা গোলমুখী প্রচেষ্টা, ১৮ শট অন টার্গেট, ২১টা গুরুত্বপূর্ণ পাস যেখান থেকে হয় গোল হয়েছে অথবা গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ফাইনালে মেসি ছিলেন একদম নিষ্প্রভ। গোটা আর্জেন্টিনা দলেরই কোনো গোলে শট নেই ফাইনালে, গোলমুখী প্রচেষ্টা দুটো যার একটি মেসির। আরেকটা যে সুযোগ এসেছিল, সেটাও মেসির কাটব্যাক থেকে।
ম্যাচশেষে মেসিকে দেখা গেল মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে হাত-পা ছড়িয়ে বসে আছেন, চোখে-মুখে চূড়ান্ত হতাশা। চল্লিশে পা দেয়া একজন ফুটবলার, যে জীবনের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলছে, তার জন্য আসরে ৮টা গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট করাটাই অনেকটা বিস্ময়ের। এমন বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলেই বিদায় জানিয়ে দেন অনেকে। যারা খেলেন, তারা মাঠের চেয়ে বেঞ্চেই থাকেন বেশি। মেসি খেললেন, খেলালেনও কিন্তু ক্যানভাসে রঙের শেষ প্রলেপটা বুলিয়ে দিতে পারলেন না। রঙিন ক্যারিয়ারের শেষটা তাই ধূসর হতাশায়।




