রয়ে যাবে কেপ ভার্দের রূপকথার রেশ

সংগৃহীত ছবি
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশ কেপ ভার্দে। তবে সবচেয়ে বড় প্রভাবটা রেখে যাচ্ছে তারাই। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হলান্ড কিংবা হ্যারি কেইনদের মত বিশ্বকাপে এই ছোট দলটিও হৃদয় কাড়ল কোটি ভক্তের।
আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাদের ম্যাচটা ছিল ডেভিড- গোলিয়াথের লড়াই। তবে ফুটবল মাঠটা যে সবার জন্য সমান সেটাই বোঝাল কেপ ভার্দে। লিওনেল মেসি মানেই অতিমানবীয় কিছু। আর ভোজিনহার মত অখ্যাত গোলরক্ষক একের পর এক সেভ করে দেখালেন, মেসিও রক্ত-মাংসেরই মানুষ। ম্যাচটা তারা ৩-২ গোলে হেরেছে ঠিকই। কিন্তু হেরেও যেন গোটা বিশ্বের হৃদয় কেড়েছে কেপ ভার্দে।
মায়ামিতে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষের বাঁশি বাজার পর 'ব্লু শার্কস' খেলোয়াড়রা মাঠের ঘাসে লুটিয়ে পড়েছিলেন। গ্যালাারি থেকেও তখন আওয়াজ আসছিল,‘ উঠে দাঁড়াও। তোমাদের আমরা ভুলব না।’
বিবিসি রেডিও ৫ লাইভ-সবার হৃদয়ের কথাটাই বলেছেন স্কটিশ সাবেক ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন , ‘কেপ ভার্দে হেরেছে ঠিকই, কিন্তু আসলে তারাই জিতেছে। তারা সাহস, একতা, সংহতি এবং তারা কী ও কী করতে পারে- সেই অটল বিশ্বাস দেখিয়েছে। এই টুর্নামেন্টের আসল গল্পটাই হলো কেপ ভার্দে। একটি ফুটবল দলের মধ্যে আপনি ঠিক এটাই দেখতে চান। তাদের রূপকথার রেশ থেকে যাবে।’
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৬৭ নাম্বাারে থেকে তারা টুর্নামেন্টে এসেছিল। গ্রুপ পর্বে তিনটি ড্র করেছিল তারা। এর একটি হট ফেভারিট স্পেনের সঙ্গে। আর্জেন্টিনাকেও তারা নামিয়ে এনেছে মাটিতে।
ইংলিশ সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল আইটিভি-কে এমন হৃদয়কাড়া ফুটবল নিয়ে বলেছেন,‘ এটি আমার দেখা কোনো আন্ডারডগ দলের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। তারা কাঁদছে কারণ তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তারা বাড়ি যেতে চায় না। তারা জীবনের বাকি সময়টা এখানেই থাকতে চায়। তারা চিরকাল এখানে থাকতে চায়। এটি এমন একটি মুহূর্ত যা এই খেলোয়াড়দের অনেকের জীবনে হয়ত আর কখনো ফিরে আসবে না। এটি একই সঙ্গে জাদুকরী ও বেদারও।’
কেপ ভার্দের খেলা দেখে মনেই হয়নি, তারা আর্জেন্টিনার চেয়ে র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে ৬৩ ধাপ। অথচ ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের কথাও মনে করাচ্ছিল তাদের ম্যাচ। থেকে যাবে এই রূপকথার রেশটাই।




