হলান্ড-বিস্ফোরণ থামিয়ে দেবে ব্রাজিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্লিং হলান্ড রীতিমতো গোলমেশিন। নরওয়েকে থামাতে বিকল করতে হবে সেই মেশিন। কার্লো আনচেলত্তির দলও ব্যস্ত হলান্ডকে আটকানোর উপায় খুঁজতে। ফিফার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্লোবোর এক জরিপ দেখাচ্ছে, আনচেলত্তির রক্ষণভাগে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে, যার ব্যবহারে রুখে দেওয়া সম্ভব হলান্ড ধূমকেতু।
পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে নরওয়ের জার্সিতে কতটা ভয়ংকর হলান্ড। এবারের বিশ্বকাপে তার গড় সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫.৩ কিলোমিটার। আর ইরাকের বিপক্ষে ছিল ৩৬.৫ কিমি! শুধু গতিই নয়, ৯০ মিনিট একই তাল-লয়ে এমন বিধ্বংসী গতির পুনরাবৃত্তি ঘটানোর ক্ষমতা হলান্ডকে অনন্য করে তুলেছে।
চার ম্যাচে এরই মধ্যে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ভালোভাবেই আছেন নরওয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড প্রতি ম্যাচেই এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। ৫৩ ম্যাচে করেছেন ৬০ গোল। ১৯৯৮ সালের পর নরওয়েকে একক প্রচেষ্টায় বিশ্বকাপে নিয়ে আসেন ম্যানসিটি তারকা। বাছাই পর্বে করেন ১৬ গোল।
সেই ফর্ম এ বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন হলান্ড। তাই তাকে নিয়ে বিশেষ কৌশল খুঁজতে হচ্ছে অভিজ্ঞ আনচেলত্তিকে। যদিও গ্লোবোর জরিপ ব্রাজিলিয়ানদের দেখাচ্ছে আশা। আনচেলত্তিও এক হলান্ডে শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে নন, ‘আমাদের রক্ষণভাগ সম্মিলিত। গাব্রিয়েল (মাগালিয়ায়েস) অবশ্যই হলান্ডের কাছাকাছি থাকবে, তবে পুরো ডিফেন্সকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি শুধু হলান্ডকে কেন্দ্র করে নয়।’
ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচের কাজ সহজ করতে গ্লোবো জরিপ করে জানিয়েছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটি দ্বৈরথে গাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসকে সাধারণত হলান্ডের মূল মার্কার হিসেবে দেখা যায়। দুই তারকার মাঠের লড়াই প্রায়ই রূপ নেয় হাতাহাতি ও মারামারিতে। এ লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে হলান্ড। ২০২২-২৩ মৌসুমে দুই তারকার ২৬টি সরাসরি দ্বৈরথে মাগালিয়ায়েস জিতেছেন মাত্র ১০টিতে। তাই মাগালিয়ায়েস নন, হলান্ডকে রুখতে ব্রাজিলকে নিতে হবে ভিন্ন কৌশল।
গ্লোবোর জরিপ একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে। ব্রাজিলের রাইটব্যাক দানিলোর হলান্ডকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শারীরিক সক্ষমতা আছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দানিলো ঘণ্টায় ৩৪ দশমিক ২ কিমি গতি স্পর্শ করেছিলেন, যা হলান্ডের চলতি আসরের গড়ের কাছাকাছি। এমনকি ম্যাচপ্রতি স্প্রিন্ট (৪৩.৩) ও হাই-স্পিড অ্যাকশনে (১০০.৫) তিনি হলান্ডের চেয়ে এগিয়ে। দানিলো দ্রুততম না হয়েও ফাঁকা জায়গায় হলান্ডের বিস্ফোরক দৌড় রুখে দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী।
ব্রাজিল দলের সবচেয়ে গতিশীল ডিফেন্ডার অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। তার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৩ দশমিক ৮ কিমি। নরওয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠলে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তার গতি বড় শক্তি হতে পারে। এ ছাড়া বাঁ প্রান্তে দগলাস সান্তোস যোগ করবেন উচ্চমাত্রার স্ট্যামিনা। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১২৮.৩টি হাই-স্পিড অ্যাকশন করেন সান্তোস। হলান্ডকে বক্সে থামিয়ে দেওয়া নিয়ে এই ডিফেন্ডার বললেন, ‘হলান্ড প্রচুর গোল করে। আমরা বিশেষ করে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে তার কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছি।’
তবে আনচেলত্তি হলান্ড ধূমকেতু থামাতে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন তার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডকে। হলান্ড নিষ্ক্রিয় হবে মার্টিন ওডেগার্ডকে বোতলবন্দি করতে পারলে। আর্সেনাল তারকা ওডেগার্ড নরওয়ের আক্রমণভাগকে যাতে বলের জোগান দিতে না পারেন, সেই গুরুদায়িত্ব থাকবে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের। ওডেগার্ডের পাসিংয়ের পথগুলো বন্ধ করতে পারলে হলান্ডের ঝাঁজ কমবে অনেকটাই।
গতিযুদ্ধে হলান্ডকে হারানোর চেয়ে ব্রাজিলের মূল চ্যালেঞ্জ হবে তিনি যাতে ধূমকেতু হওয়ার মতো বলের জোগান না পান।





