বিশ্বকাপ
ইংল্যান্ডের সামনে এখন নরওয়ের ‘গোলমেশিন’

আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কাঁদিয়েছে নরওয়ে। চলতি বিশ্বকাপের শেষ আটে এখন মুখোমুখি হবে ইউরোপের এই দুই দল। সোনালি চুল উড়িয়ে মাঠে হলান্ডের ছুটে চলার দৃশ্য সবসময়ই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে তীব্র আতঙ্ক। তিনি বল স্পর্শ করবেন কম, কিন্তু যখনই করবেন, বল গিয়ে আছড়ে পড়বে জালে।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ঠিক এই চিরচেনা নির্মমতায় ডুবিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নতুন রূপকথা লিখলেন আর্লিং হলান্ড। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালেস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিনকে। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের ডি-বক্সের ভেতর মাত্র একবার বল ছুঁতে পেরেছিলেন হলান্ড। কিন্তু ম্যাচের বয়স যখন ৭৯ মিনিট, তখনই খোলস ছেড়ে বের হন এই স্ট্রাইকার। বক্সের ভেতর পাওয়া মাত্র দ্বিতীয় সুযোগেই গ্যাব্রিয়েলকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে নেন তিনি। এর ঠিক ১১ মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার এক মাটিঘেঁষা বুলেট গতির শট ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।
এই জোড়া গোলের সুবাদে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার (৭ গোল) তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন হলান্ড। জাতীয় দলের হয়ে হলান্ডের পরিসংখ্যান যেকোনো স্ট্রাইকারের জন্য ঈর্ষণীয়। নরওয়ের হয়ে মাত্র ৫৪ ম্যাচে এখন তার গোলসংখ্যা ৬২! প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করছেন তিনি, যার মধ্যে মাত্র ৬টি এসেছে পেনাল্টি থেকে। আরও অবিশ্বাস্য তথ্য হলো, দেশের হয়ে শেষ ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ২৭টি গোল করেছেন!
হলান্ডের এই ভয়ংকর পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে যথেষ্ট। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ইয়ান রাইটের ভাষায়, ‘মানুষ প্রায়ই ওর কম বল ছোঁয়া নিয়ে কথা বলে। কিন্তু গোল করার জন্য ওর বেশি বল ছোঁয়ার প্রয়োজনই পড়ে না।’ অন্যদিকে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল তো বলেই দিয়েছেন, ‘এতদিন বলা হতো ও বিশ্বমঞ্চে কিছু করেনি, সেই আক্ষেপ এবার ঘুচে গেল। এখন ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম হলান্ড।’
দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছিল। নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার ইতিহাস তাদের ছিল না। এবার টানা দুই নকআউট ম্যাচ জিতে, তাও আবার ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে ইতিহাস লিখল স্টেল সলবাকেনের দল। খেলা শেষে গ্যালারির হাজারো ভাইকিং টুপি পরা সমর্থকদের সঙ্গে মাঠেই বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোইং’ উৎসবে মাতেন হলান্ডরা। ড্রাম বাজিয়ে উদ্যাপনের নেতৃত্ব দেওয়া হলান্ড আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এটি স্রেফ একটি পাগলাটে দিন। নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও পাগলাটে দিন এটি।’






