কৌশলী কেইন নিখুঁত হলান্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইন, বিশ্বকাপে দুজনই নিজ নিজ দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নরওয়ের হলান্ড করেছেন ৭ গোল, ইংল্যান্ডের কেইনের ৬। সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলের তুরুপের তাস এ দুজনই; তবে তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ বলছে, হলান্ডকে আটকাতে পারলেই নরওয়েকে রুখে দেওয়া যাবে।
তবে কেইনকে আটকানোর কৌশলে থামানো যাবে না ইংল্যান্ডকে। ফুটবলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’ সুপার কম্পিউটার বলেছে, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোলের সম্ভাবনাকে গোলে রূপান্তরের হারে সবচেয়ে এগিয়ে হলান্ড। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত হলান্ড গোলে শট নিয়েছেন ১২টি, যার ৭টি গোলে রূপান্তরিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষণের ভাষায় যাকে বলা হয় এক্সজি বা এক্সপেকটেড গোল। হলান্ডের এক্সজি হচ্ছে ৪ দশমিক ৩২, তার ৭ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে নয়। হলান্ডের গোলমুখী শটের মাত্র ছয়টি ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। নরওয়ে এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মতো গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করেনি, তবে যেগুলোই করেছে, এর বেশিরভাগই গোলে রূপান্তরিত হয়েছে। গোলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলার কারণেই হলান্ডের ইমপ্যাক্ট পাওয়ার রেটিং প্রায় ১০০-এর কাছাকাছি, ৯৬ দশমিক ৫।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড নরওয়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকেছে, গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছে, গোলে শটও নিয়েছেন দলের ফুটবলাররা। কিন্তু সাফল্য সেই অনুপাতে কম। কেইন গোলে শট নিয়েছেন ১৯টি, যার মধ্যে পোস্টে ছিল ১০টি আর তাতে গোল হয়েছে ৬টি। তবে মনে রাখতে হবে, কেইনের ৬ গোলের দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। অর্থাৎ ওপেন-প্লেতে কেইনের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হলান্ড!
নরওয়ের কৌশলটাই হচ্ছে গোলের সুযোগের জন্য হলান্ডকেই বল দেওয়া, ৯ জন ভিন্ন ভিন্ন সতীর্থের কাছ থেকে গোলমুখে পাস পেয়েছেন এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার। সবচেয়ে বেশি তিনটি পাস পেয়েছেন আন্দ্রেয়াস শোয়েল্ডার্পের কাছ থেকে। ব্রাজিল শেষ ষোলোর ম্যাচে হলান্ডকে আটকাতে পারেনি শেষ পর্যন্ত, তাতেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের জন্যও এটাই শিক্ষা যে, হলান্ডকে গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে পারেন যেকোনো সতীর্থই, স্রেফ মার্টিন ওডেগার্ড বা আলেক্সান্ডার সরলথ নন। আর ডি-বক্সের ভেতরে বা খানিকটা বাইরের জায়গা থেকেও গোল করা হলান্ডের পায়ে এই জায়গাগুলোয় বল আসা মানেই গোল হজমের ঝুঁকি।
এটুকু পড়ে যদি ইংল্যান্ড সমর্থকদের মন খারাপ হয়, তাহলে আশার বাণীও আছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার বা বল পাস দেওয়ার সামর্থ্যে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসন, এজরি কোয়ানসা ও ডেকলান রাইস, এমনকি কেইন এবং বেলিংহামও এই কাজ আগের ম্যাচগুলোয় ভালোভাবেই করেছেন। রাইস বক্সের ভেতর পাস দিয়েছেন ৪২টি, যা ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ, যেখানে নরওয়ের ওডেগার্ড দিয়েছেন তার অর্ধেকের কম, ২০টি। অ্যান্ডারসনের বেলায় সংখ্যাটা ১৪, বেলিংহামের ১০, এমনকি কেইনেরও ৫। ফাইনাল থার্ডে পাস দেওয়ার বেলায়ও কোয়ানসা ও ওডেগার্ড সমান, দুজনেরই ৫৭টি। তবে ওডেগার্ডের পর স্যান্ডর বার্জে সংখ্যাটা ৩১, যেখানে অ্যান্ডারসন দিয়েছেন ৪৫টি আর রাইস ২৬টি। অর্থাৎ বলা যায়, ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা সম্মিলিতভাবে অনেক গোলের সুযোগ বা আক্রমণ তৈরি করেছেন নরওয়ের চেয়ে। হলান্ডের যান্ত্রিক দক্ষতাই নরওয়ের কোচের কৌশলকে পরিণত করেছে অনেকটা ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিকে। বলটা হলান্ডকে দাও, এটাই মন্ত্র আর হলান্ড নিপুণ নিশানায় গোল করছেন। ইংল্যান্ডে বরং গোলের সুযোগ সৃষ্টিতে হতে হচ্ছে অনেক কৌশলী, উইং ও মাঝমাঠ থেকে সুযোগটা তৈরি করে ওপরে উঠতে হচ্ছে। গোলপোস্টের সামনে শুধু কেইনই নন, বেলিংহামও পৌঁছে যাচ্ছেন। যাদের সামাল দেওয়াটা বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই দুঃসাধ্য।




