ম্যাচ শেষে বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন কঙ্গো কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। তখনো বাতাসে ভাসছে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ২-১ গোলের হৃদয়ভাঙা হারের রেশ। ইউরোপীয় পরাশক্তিদের বিপক্ষে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লিড ধরে রেখেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ছিটকে যাওয়ার বিষাদ স্পষ্ট ছিল কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের চোখে-মুখে।
ফুটবলীয় সেই পরাজয়ের কষ্টকে ছাপিয়ে একটু পরেই দেসাব্রের জীবনে নেমে এল এক চরম ব্যক্তিগত শোকের ছায়া, যা সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশকে মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয়। সাংবাদিকদের শেষ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেসাব্রে যখন আসন ছেড়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই মাইক হাতে নেন কঙ্গো জাতীয় দলের মিডিয়া অফিসার। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা করেন, 'আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।'
হঠাৎ এমন এক আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে যান কক্ষে উপস্থিত সবাই। হতভম্ব হয়ে পড়েন স্বয়ং দেসাব্রেও। বিষাদগ্রস্ত চেহারায় কোনোমতে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি। ৫ দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে কঙ্গোর ঐতিহাসিক যাত্রার সমাপ্তিটা যে এভাবে এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা ছিল সবার কল্পনার বাইরে।
এর আগে মাঠের লড়াইয়ে ফেবারিট ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল কঙ্গো। ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি। এরপর কঙ্গোলিজ গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি যেন পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। জুড বেলিংহামের দুটি দুর্দান্ত হেড এবং হ্যারি কেইনের একটি অনবদ্য ভলি রুখে দিয়ে ম্যাচজুড়ে কঙ্গোকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনি।
তবে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে খেই হারায় আফ্রিকার দলটি। ৭৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রস থেকে হেড করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আর ম্যাচ শেষের ঠিক ৪ মিনিট আগে ডি-বক্সের ভেতর ডান পায়ের জাদুকরি শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি কঙ্গোর বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন কেইনেই।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেসাব্রে নিজের শিষ্যদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, 'যখন আপনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তখন আপনাকে সেরাটাই দিতে হবে। আজ সবাই দেখেছে যে কঙ্গোর ফুটবল এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।'
১৯৭৪ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর (তখন জাইরে নামে খেলেছিল) এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিল কঙ্গো। সেবার গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। তবে এবার ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বসেরা দলকে যেভাবে তারা বিদায়ের কিনারে ঠেলে দিয়েছিল, তা ফুটবল দুনিয়ার প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু কঙ্গো কোচের জন্য সেই গৌরব আর অর্জনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেল এক অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতিতে।




