মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মেসিকে আটকাবেন আলাবা
অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক ডেভিড আলাবা এরই মধ্যে সাতটি ম্যাচ খেলেছেন মেসির বিপক্ষে এবং চারবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এ সেন্টারব্যাক ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখেও। বাভারিয়ানদের হয়ে বার্সেলোনায় থাকা মেসির বিপক্ষে খেলেছেন ছয় ম্যাচ আর রিয়ালে আসার পর যখন প্যারিস সেন্ত জার্মেইর হয়ে মাঠে নামা মেসিকে পেয়েছেন প্রতিপক্ষে। বায়ার্নের হয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-০, ৩-০, ৩-২ ও ৮-২ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে মেসিকে আটকেছেন আলাবা। একবার পিএসজির মেসির কাছে হেরেছেন। মেসি সাধারণত ডান দিক থেকে ভেতরের দিকে ঢোকার চেষ্টা করেন। আলাবা যেহেতু লেফটব্যাক-সেন্টারব্যাক, তাই মেসির শুটিংয়ের কোণ আটকে মূল দায়িত্ব থাকবে তার ওপর। অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিককে বলা হয় আধুনিক জার্মান ফুটবলের গডফাদার, লিভারপুলে ক্লপ যে কৌশলকে জনপ্রিয় করেছেন সেটা অনেকটাই রাংনিকের উদ্ভাবন। তিনি নিশ্চয়ই মেসিকে আটকানোর আটকানোর চেষ্টা করবেন।
সুযোগ মার্তিনেস বা আলভারেসের
অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ যদি লিওনেল মেসিকে আটকাতে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সেটা বড় সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে লাউতারো মার্তিনেস অথবা হুলিয়ান আলভারেসের জন্য। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ৫৫ মিনিটে মার্তিনেসকে তুলে নামিয়েছিলেন আলভারেসকে। ডিপ লাইং প্লেমেকারের জায়গা ছেড়ে এনসো ফের্নান্দেসও উঠে আসতে পারেন ওপরে, যেমনটা তিনি করেছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে। মেসিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন স্কালোনি, পোকা যেমন আলোর দিকে ছুটে যায়, তেমনি মেসি যদি মাঠের ডানপ্রান্তের দিকে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের মূল শক্তিটাকে টেনে নেন, তখন ফাঁকা জমিতে উঠে এসে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে জায়গা করে নিতে পারেন আলভারেস, ফের্নান্দেস বা ম্যাক অ্যালিস্টার। সেখান থেকে একটি সুযোগ কাজে লাগলেই সেটি ম্যাচের ফল গড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
যেভাবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদেরও বাছাই পর্ব খেলতে হচ্ছে বছর কুড়ি হয়ে গেল। আর্জেন্টিনা তাই ১৯৮৬’র পর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগটি আর পেল না। তবে বাছাই পর্বটিও তারা খেলেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতোই। ১৮ ম্যাচের ১২টিতে জয়, দুই ড্র আর চার ম্যাচে হার। ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই দক্ষিণ আমেরিকান বাছাই পর্ব শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। গোল করেছে ৩১টি আর হজম করেছে মাত্র ১০টি। বাছাই পর্বে ৮ গোল করে শীর্ষ গোলদাতা লিওনেল মেসি।
যেভাবে বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া
ইউরোপিয়ান বাছাই অঞ্চলের গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে অস্ট্রিয়া। ১৯৯৮’র বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম তারা খেলার সুযোগ পেয়েছে বিশ্বকাপে। তাদের সঙ্গে বাছাই পর্বে একই গ্রুপে ছিল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, রোমানিয়া, সাইপ্রাস ও সান মারিনো। আট ম্যাচের ছয়টিতে জিতে আর একটি করে ম্যাচে হেরে ও ড্র করে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রিয়া। বাছাই পর্বে তারা করেছে ২২ গোল, এর মধ্যে ৮ গোল একাই করেছেন মার্কো আরনাটোভিচ।




